কোনো সরকারি বরাদ্দ বা ত্রাণের আশার নয়, বিশুদ্ধ পানির জন্য ট্যাংকগুলোর সামনে ভিড় জমাচ্ছেন দিল্লির বাসিন্দারা। পানি সরবরাহকারী ট্রাক দেখলেই ছুটে যাচ্ছে সেগুলোর দিকে।
বায়ু দূষণে বছরের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে সংবাদের শিরোনামে থাকে ভারতের রাজধানী দিল্লির নাম। পাশাপাশি, দুই কোটি জনসংখ্যার শহরটিতে সুপেয় পানির সংকট একেবারে নতুন বিষয় নয় । তবে সম্প্রতি যমুনা নদীতে অ্যমোনিয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দিল্লির ৬টি জল কেন্দ্রের সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। কেননা দূষণের মাত্রা ভয়াবহ হওয়ায় শোধনাগারগুলো ব্যর্থ হচ্ছে পানি বিশুদ্ধিকরণে।
আরও পড়ুন:
কর্তৃপক্ষ জানায়, এর ফলে দিল্লির ৪৩টি এলাকার ২০ লাখ মানুষ এখন ভয়াবহ পানি সংকটের মুখে। বেশ কয়েকদিন ধরে একেবারেই পানি পাচ্ছেন না এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা। কোনো কোনো জায়গায় পানি পাওয়া গেলেও তা প্রয়োজনের চেয়ে খুবই কম। এছাড়া, সরবরাহ করা পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
দিল্লি অঞ্চলের বাসিন্দারা বলেন, দূষিত পানি দিয়েই ঘরের কাজ সারছি। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে পানি সংগ্রহ করছি। এরপরও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি না। ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি পানি পাই না। এতো অল্প সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ প্রায় অসম্ভব। একারণে পাইপ ব্যবহার করি। প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। পানি সংগ্রহের জন্য সঠিকমতো কাজে যেতে পারে নি।
অনেক জায়গায় বিশুদ্ধ পানির জন্য বেসরকারি পানি সরবরাহকারী ট্যাংকারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রাহকেরা। কিন্তু এজন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
দিল্লির মোট পানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে যমুনা নদী থেকে। তবে কয়েক দশক ধরে বিষাক্ত রাসায়নিক এবং অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশনের কারণে জৌলুস হারাচ্ছে নদীটি। যমুনার ৭৬ শতাংশ পানি দূষণের জন্য দায়ী দিল্লি।
এছাড়া, দিল্লির পানি দূষণের আরেকটি কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় সারা বছর এলাকাগুলো হাঁটু সমান পানিতে ডুবে থাকে। এতে করে অনেক স্থানে বর্জ্য মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং দূষণ ছড়ায়।





