আইসবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল মিনিয়াপলিস, রাস্তায় ৫০ হাজার মানুষ

বিক্ষোভে উত্তাল মিনিয়াপলিস
বিক্ষোভে উত্তাল মিনিয়াপলিস | ছবি: সংগৃহীত
0

মার্কিন অভিবাসন পুলিশ আইসবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অভিবাসন পুলিশ সদস্যদের মিনেসোটা ছাড়ার দাবিতে মিনিয়াপলিসের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। আইসের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সি নারী নিহত এবং মঙ্গলবার শিশু ও তার বাবাকে আটক করায় শহর অচল করে দেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ট্রাম্প প্রশাসনের এসব অভিযানকে বর্ণবৈষম্য বলে মন্তব্য করেছেন মিনিয়াপলিসের মেয়র। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের।

মাইনাস ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তীব্র ঠাণ্ডা ও তুষারপাতের মধ্যেও মার্কিন অভিবাসন, পুলিশ আইসিই বিরোধী বিক্ষোভে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আটক ও দমন-পীড়ন অভিযান না থামানোয় মিনিয়াপলিসের রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। প্ল্যাকার্ড হাতে দেয়া স্লোগানে স্লোগানে শহরটি থেকে অভিবাসন পুলিশকে বিতাড়িত করার দাবি তুলেছেন তারা।

স্থানীয় নাগরিক বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই ঠান্ডা আবহাওয়া আমাদের সঠিক পথ থেকে দূরে রাখতে পারবে বা বিরত রাখবে। পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে এই পরিস্থিতির সমাধানে সাহায্য করা সম্ভব না। সবাই ভীত। তাই আমাদের কথা বলা দরকার।’

৭ জানুয়ারি অভিবাসন পুলিশের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সি নারী নিহতের পরও বিতর্কিত অভিবাসন বিরোধী অভিযান না থামানো বিক্ষোভ উত্তেজনা বেড়েছে। এরমধ্যেই গত মঙ্গলবার পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু এবং তার বাবাকে আটক করে আগুনে ঘি ঢেলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে স্থানীয় অধিবাসী, শিক্ষা প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এ আওতায় আইসিই সদস্যরা মিনেসোটা শহর অচল করে দেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আরও পড়ুন:

আরেক স্থানীয় নাগরিক বলেন, ‘শিশুরা আতঙ্কিত। পরিবারগুলো তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। এটি ডোনাল্ড ট্রাম্প পছন্দ করেন না এমন সম্প্রদায়গুলোকে আতঙ্কিত রাখার অভিযান। তিনি কেন এটি করছেন আমেরিকান শহরগুলোতে সেনা মোতায়েন রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত সহিংসতার অংশ।’

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কর্মসূচিকে জাতিগত বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে অভিহিত করেছেন মিনিয়াপলিসের মেয়র।

মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, ‘স্পষ্টতই, আমরা যা দেখছি তা কেবল বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং নির্বিচার। অপরাধ সফলভাবে কমাতে আমাদের বেশ কয়েকটি ফেডারেল প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। তবে আমরা যা দেখছি তা রাজনৈতিক প্রতিশোধের চেয়ে বেশি। এটি নিরাপত্তার চেয়ে মানুষকে দুঃখজনকভাবে আতঙ্কিত করছে।’

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে অভিবাসন নীতিতে এগুনোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক। এ বছরের অভিবাসন বিরোধী অভিযানে ৬ জনের প্রাণহানিতে উদ্বেগও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ওএইচসিআর মুখপাত্র মার্থা হুর্তাদো বলেন, ‘মার্কিন ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হাতে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগ জনক ভাবে বাড়ছে। তাই এটির একটি স্বাধীন এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন হাই কমিশনার। গত বছর কমপক্ষে ৩০টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত আরও ৬ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।’

এতকিছুর পরও বিতর্কিত অভিবাসন বিরোধী অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে ট্রাম্প প্রশাসন। আইসিইর সাফাই গেয়ে বিশৃঙ্খলার দায় চাপাচ্ছেন অভিবাসী ও আন্দোলনকারীদের উপর।

এএম