যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্কের বৈরিতা বাড়ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেটে ফ্রেডরিকসেন
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেটে ফ্রেডরিকসেন | ছবি: সংগৃহীত
0

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করলেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন। পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপটি দখলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেয়ার পর তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্কের বৈরিতা ক্রমেই বাড়ছে। উদ্বেগ বাড়ছে গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

ভেনেজুয়েলা কব্জায় নেয়ার পর গ্রিনল্যান্ড পুরোপুরি দখলে নিতে এখন মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র দখল না করলে রাশিয়া বা চীন পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে বলেও মনে করেন তিনি। তাই সহজে এর মালিকানা না পেলে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটিতে আক্রমণের জন্য পরিকল্পনার ছক আঁকতে স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডারদের নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন শীর্ষ সেনাকর্মকর্তারা এর বিরোধিতাও করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ওঠে এসেছে।

ট্রাম্পের হুমকি ঘিরে জটিল হচ্ছে সমীকরণ। এ অবস্থায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার দেশকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। বৈশ্বিক খনিজ সম্পদের সরবরাহ ইস্যুতে সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠকে বসার আগে এসব কথা বললেন তিনি। স্বশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড দখলে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ককে সমর্থন জানিয়েছে জার্মানি এবং সুইডেন। সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালিও।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল বাসনায় ভূ-রাজনৈতিক ঝড় আরও উস্কে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকট হচ্ছে। কারণ আয়তনে যুক্তরাজ্যের ৯গুণ বড় দ্বীপটি দখলে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করবে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জটিলতা হলো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র একা মোড়লের ভূমিকা খাটাতে পারে না। ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে মিলেই তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ট্রান্স-আটলান্টিক জোট ন্যাটোর সদস্য।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড দখলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ট্রাম্প একা কিছু করে বসলে ন্যাটোর ইতি ঘটবে বলে সতর্ক করে রেখেছেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। কারণ জোটের কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে ধরে জবাব দেয়ার কথা। কিন্তু এখন জোটের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সদস্য দেশের ওপর হামলার হুমকি দিচ্ছে। ন্যাটো জোটে সদস্য রাষ্ট্র থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও আছে মহা বিপদে।

ইএ