নতুন বছরে জাতি গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা বিশ্বনেতাদের

ঝলমলে আলোয় নতুন বছরকে বরণ
ঝলমলে আলোয় নতুন বছরকে বরণ | ছবি: এখন টিভি
0

নতুন বছরে জাতি গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। যুদ্ধ অবসানে আশাবাদী ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে, জয়ের ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ২০২৬ সালে চীনা অলৌকিকতার নতুন অধ্যায় রচনার ডাক দিয়েছেন শি জিনপিং। ইতিবাচক পরিবর্তনের আশায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার করলেন ট্রাম্প। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধানও।

গোটা বিশ্ব যখন নতুন বছরের উদযাপনে ব্যস্ত, তখন অনেকটাই নিরব যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত বেশিরভাগ ইউক্রেনীয়দের জীবন। ঘড়ির কাঁটায় যখন ঠিক মধ্যরাত কিয়েভের প্রতীকী স্বাধীনতা স্কোয়ারকে নেমে আসে ভয়ঙ্কর নীরবতা। বেজে উঠে বিমান হামলার সাইরেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসান চান তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘দুর্বল চুক্তির অধীনে স্বাক্ষর কেবল যুদ্ধের ইন্ধন জোগায়। ইউক্রেন শক্তিশালী চুক্তির অধীনে থাকবে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রতিটি সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের অবসান চায় ইউক্রেন। তবে কারও কাছে মাথা নত করে নয়। যুদ্ধ নয় শান্তি চায় সবাই।’

নতুন বছরে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবেশী ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চেয়েছে রাশিয়ার সাধারণ মানুষও। নববর্ষ ঘিরে মস্কোতে নেই আতশবাজির ঝলকানি। বন্ধ ছিল মস্কোর বিখ্যাত রেড স্কোয়ার। ক্রেমলিনের চারপাশে মোতায়েন অসংখ্য পুলিশ। ক্রিসমাসের সাজসজ্জার মধ্যেই উদযাপন সেরেছে মস্কোবাসী। এদিকে, নববর্ষের ভাষণে রুশ সেনাদের বীর বলে আখ্যায়িত করে পুতিন বলেন, রাশিয়া এ বছরই যুদ্ধে জয়ী হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘প্রত্যেকেরই নিজস্ব, ব্যক্তিগত ও বিশেয় আশা এবং পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মাতৃভূমি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রাশিয়ার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রত্যেকের কাজ সাফল্য এবং অর্জন দিয়ে হাজার বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করবে। রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ঐক্যের শক্তির দেখাতে হবে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে, নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আশা করেন, নতুন বছরে ইউক্রেনকে রক্ষায় মিত্রদের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার নববর্ষের বার্তায় ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেন। ব্রিটেনের ধীর অগ্রগতি নিয়ে নিজের হতাশার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

২০২৬ সালে নতুন অধ্যায় রচনার প্রত্যয় জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি জানান, চীনের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে উন্নয়নের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে চীন। বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা আরও ন্যায্য ও সুসংহত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার বিষয়ে এক দেশ, দুই ব্যবস্থা নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও পুনব্যক্ত করেন শি জিনপিং।

নববর্ষ ঘিরে অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগোতে পার্টির আয়োজন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠাই তার নতুন বছরের সংকল্প। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার ইস্যুটি এড়িয়ে যান তিনি। অনুষ্ঠানে যীশু খ্রিস্টের একটি চিত্রকর্ম নিলামে বিক্রি হয় সাড়ে ২৭ লাখ ডলারে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা ভালো অবস্থানে আছে বলে দাবি করেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতে প্রযুক্তিগত ও সামরিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি।

এফএস