৪ জুলাইয়ের ভোরে গভীর ঘুমে যখন মগ্ন ছিলেন মধ্য টেক্সাসের মানুষ, সেদিন মাত্র এক ঘণ্টায় সেদিন ফুলে ওঠে গুয়াডাল্যুপ নদী। নদীর তীর থেকে ৩০ ফুট দূরের দু'তলা ভবনও চলে যায় পানির নিচে।
প্রলয়ঙ্কারী বন্যার তিন দিনে মৃতের সংখ্যা ১শ' ছাড়িয়ে গেছে। নিখোঁজ অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষ। ক্রিশ্চান গার্লস সামার ক্যাম্পে অংশ নেয়া কমপক্ষে ১১ জন এখনও নিখোঁজ। তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয় বাকিদের। পানি নেমে যাওয়ার পর চতুর্দিক ক্ষতবিক্ষত আর ক্যাম্প ভবনের ছয় ফুট উঁচুতেও দাগ ছেড়ে গেছে বন্যা। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বশক্তি ঢেলে দিচ্ছে প্রশাসন। তবে সময়ের সাথে ম্লান হয়ে আসছে নিখোঁজ মানুষদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা।
টেক্সাসের কেরভিল সিটি ব্যবস্থাপক ডালটন রাইস বলেন, ‘১৯টি স্থানীয় ও প্রাদেশিক সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সন্ধানকাজ চালাচ্ছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যেমন নর্থ কার কাউন্টির বিভিন্ন এলাকায় জনে জনে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। স্থল অভিযান, প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে, ড্রোনের সাহায্যে নানা মাধ্যমে সন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছি আমরা।’
এখনও বন্যা সতর্কতা জারি রয়েছে ৫০ লাখ মানুষের বসতিজুড়ে। আরও দুই থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির আভাস রয়েছে অনেক এলাকায়। তীব্র ঝড়বৃষ্টির মধ্যে মার্বেল ফলস এলাকায় বন্যার্তদের সন্ধানে ডিঙিতে চড়ে উদ্ধারকারী দলের এ তৎপরতা। ঝড়ের রাতে আকস্মিক ঢল আর তীব্র স্রোত থেকে বাঁচতে গাছে ঝুলে থাকা দুইজনকে উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে এল পাসো ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
তারা বলেন, ‘সবাই এগিয়ে আসছে একসাথে। ঐক্যবদ্ধভাবে একে অপরকে সাহায্য করছে। জাগতিক বিষয়টা পাশে রেখে যদি ভাবি, এ ধরনের ঘটনা আসে, যায় তবে দিন শেষে থেকে যায় শুধু সম্পর্কগুলো। এভাবে একজন আরেকজনকে তুলে ধরে। আগের অবস্থায় ফিরে যেতে সময় লাগবে। কিন্তু সবাই মিলে একসাথে কাজ করছি যেহেতু, আমরা আশা করি খুব শিগগিরই আগের অবস্থায় ফিরতে পারবো আমরা।’
আরো পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি, পাহাড়ে ঘেরা আর আকস্মিক ঢলপ্রবণ টেক্সাস হিল কাউন্টি। অ্যাকুওয়েদারের তথ্যমতে, শুক্রবারের বন্যায় সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি প্রায় এক হাজার ৮শ' থেকে দুই হাজার ২শ' কোটি ডলার।
অ্যাকুওয়েদানের প্রধান আবহাওয়াবিদ জোনাথন পোর্টার বলেন, ‘বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল রাতে। আকস্মিক ঢল আর টর্নেডোসহ নানা ভাবে আবহাওয়া বিরূপ ছিল রাতে। সময়টা বিশেষভাবে বিপজ্জনক কারণ ওই সময়ে বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। এছাড়াও এসব এলাকায় বেড়াতে গিয়ে যারা গাড়িতে বা তাঁবুতে থাকেন, তাদের বিশেষ করে সার্বক্ষণিক আবহাওয়া সতর্কতা পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার মতো কাউকে দায়িত্বে রাখা উচিত।’
বন্যার পূর্বাভাস দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকারের পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেটছাঁটের প্রভাব পড়েছে দুর্যোগের পূর্বাভাসে, এমন সম্ভাবনার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউজ।

 Minister Li Yunze-320x167.webp)



