যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে গাজায় যখন ফের আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল, তখনই সাধারণ ইসরাইলিরা বুঝে গেছেন বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এবার তাই নেতানিয়াহুকেই আর সরকারে দেখতে চান না ইহুদিরা। আর সেই দাবিতে রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার ইসরাইলিরা।
গেল কয়েকদিন ধরেই রাজধানী তেল আবিব ও জেরুজালেমে বন্দিদের মুক্তি ও নেতানিয়াহুর পতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নেতানিয়াহুর বিতর্কিত সব কর্মকাণ্ড। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধানকে বহিষ্কারের সোচ্চার ইসরাইলিরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, এবারই প্রথম বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ‘গেল দুই মাসের তুলনায় ৫০ শতাংশ মানুষ বেশি জড়ো হয়েছে এবারের আন্দোলনে। হামাসের হাতে এখনও ইসরাইলি বন্দিরা জিম্মি রয়েছে। তাদের ফেরাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা নতুন নেতৃত্ব চাই।’
আরেকজন বলেন, ‘দেশের সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে, আইন রয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। সরকারেরও দেশের আইন অনুযায়ী চলতে হবে।’
আন্দোলনকারীদের আরেকজন বলেন, ‘নেতানিয়াহু বন্দিদের জীবন নিয়ে চিন্তিত নন। নির্বাচন স্থগিত করে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে চান তিনি। তাই সে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করেছে। যা একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি করতে পারেন না। তার কাছে ক্ষমতাই সব।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল ভূখণ্ডে হামলা করে নারী-শিশুসহ প্রায় আড়াইশো বন্দিকে জিম্মি করে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৬টি ধাপে এ পর্যন্ত ৩৩ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। যার বিনিময়ে প্রায় ১৮০০ ফিলিস্তিনিকে কারামুক্তি দেয় তেল আবিব।