ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিত: ঝুঁকিতে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশের গণমাধ্যমের সম্প্রচার

বিদেশে এখন
0

ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিতে এবার ঝুঁকিতে ইউরোপসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্প্রচার। এ আওতায় রয়েছে হাঙ্গেরি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আদেশে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থাটির কার্যক্রম স্থগিতে খুশি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী। সরকারের সমালোচনাকারী এনজিও এবং গণমাধ্যমে দেয়া সব বিদেশি নেটওয়ার্ক নির্মূলের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের কলমে খোঁচায় বিশ্বজুড়ে ইউএসএআইডি'র কার্যক্রম বন্ধে হুমকির মুখে পড়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা ছাড়ায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি। এবার জানা গেলো শুধু স্বাস্থ্যসেবা খাতই নয়, হুমকিতে পড়েছে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বহু গণমাধ্যমের স্বাধীন পথচলা। এমনই এক গণমাধ্যম হাঙ্গেরির রেডিও স্টেশন ক্লোব্রাডিও।

২০০১ সাল থেকে রেডিও স্টেশনে নতুন স্টুডিও সরঞ্জাম কিনতে এবং দ্বিতীয় স্টুডিও আপগ্রেডের জন্য ইউএসএআইডি থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া পরিচালনা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই চলে অনুদানে। এ অবস্থায় সহায়তা প্রকল্পটি স্থগিতে দুশ্চিন্তায় সম্পাদকসহ কলাকুশলীরা।

হাঙ্গেরির ক্লোব্রাডিওর প্রধান সম্পাদক মিহালি হার্ডি বলেন, ‘আমাদের সম্প্রচারের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষায় দ্বিতীয় স্টুডিও তৈরিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল। ইউএসএআইডি থেকে অর্থ বরাদ্দের কথা ছিল, তবে এটি আপাতত বন্ধ হওয়ায় আমরা অনেক উদ্বিগ্ন।’

সংস্থাটিতে অর্থ সহায়তা বন্ধে হাঙ্গেরির গণমাধ্যমগুলোর সংকটে বুদাপেস্টে থাকা আরেকটি সংবাদমাধ্যমের বার্তা কক্ষে বসেছে জরুরি সম্পাদকীয় সভাও। যেখানে সাংবাদিকদের কাজ চালিয়ে নিতে কিভাবে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে- তা নিয়ে হয় আলোচনা।

আটলাটজোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তামাস বোডোকি বলেন, ‘হাঙ্গেরিতে আমরাই একমাত্র নই যারা ইউএসএআইডি থেকে সহায়তা পেতাম। এখানকার মিডিয়া পরিস্থিতির অবনতি দেখে ২০২২ সালে তারা এসেছিল। বেশ কয়েকটি স্বাধীন মিডিয়া তাদের সমর্থনও পেয়েছে। তাই এখন আমার মনে হয় তাদের দেয়া তহবিল ছাড়া স্বাধীনভাবে মিডিয়া কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া কঠিন, উন্নতিতো দূরের কথা।’

এদিকে, গণমাধ্যম হুমকিতে পড়লেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বেশ খুশি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ইউএসএআইডি'র বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টর পদক্ষেপকে স্বাগতও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের সমালোচনাকারী এনজিও এবং গণমাধ্যমে দেয়া সব বিদেশি নেটওয়ার্ক নির্মূলের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বলেন, ‘যারা এসব সহায়তা গ্রহণ করবে বা করতো তাদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। বিদেশ থেকে আসা অর্থ দিয়ে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে দেয়া যাবে না। যারা এতে জড়িত তাদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ বছরে হাঙ্গেরিতে গণমাধ্যমের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু বেসরকারি মিডিয়া বন্ধ বা দখল করা হয়েছে।

সরকারের হস্তক্ষেপ থেকে গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইউরোপ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সমর্থন করে আসছিলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাটি। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায়, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের মিডিয়ায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা করা হচ্ছে; এরমধ্যে অনেক ইউরোপীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত।

এএইচ