রায়ে ডিস্ট্রিক্ট জজ আইলিন ক্যানন বলেন, ‘রাউথের অপরাধের মাত্রা ও ভয়াবহতা বিবেচনায় আমৃত্যু কারাদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি। বিচারকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, রাউথ দীর্ঘ সময় ধরে একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং প্রয়োজনে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো যে কাউকে হত্যা করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।’ গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি নিজের অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি বলেও উল্লেখ করেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প গলফ খেলছিলেন। সে সময় ঝোপের আড়াল থেকে একটি রাইফেলের ব্যারেল উঁকি দিতে দেখেন সিক্রেট সার্ভিসের এক সদস্য। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছুড়লে রাউথ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে রাউথের অবস্থান থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, স্কোপ এবং অতিরিক্ত ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তার কাছে পাওয়া একটি তালিকায় ট্রাম্পের সম্ভাব্য যাতায়াতের বিভিন্ন স্থানের নাম ছিল। পাশাপাশি এক বন্ধুকে লেখা নোটে তিনি নিজেই ঘটনাটিকে ‘হত্যার প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় রাউথের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। তিনি আইনজীবীর সহায়তা না নিয়ে নিজেই নিজের পক্ষে মামলা লড়েন। ট্রায়াল চলাকালে তিনি আদালতে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন এবং একাধিক অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেন। জুরি বোর্ডের কাছে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত কক্ষে তিনি নিজেকে আঘাত করার চেষ্টা করেন, তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এটি ছিল দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা। এর আগে, জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে একটি নির্বাচনি সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ওই ঘটনায় একজন সমর্থক নিহত হন এবং হামলাকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান।
রায়ান রাউথ উত্তর ক্যারোলিনার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের আগে তিনি কিছুদিন হাওয়াইয়ে অবস্থান করছিলেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো।





