মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ গাইডলাইন অনুযায়ী, ভিসা বন্ড গ্রহণকারী বাংলাদেশিসহ অন্য যাত্রীদের অবশ্যই নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, বোস্টন লোগান অথবা ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের যেকোনো একটি ব্যবহার করতে হবে। নির্ধারিত এ তিনটি বিমানবন্দরের বাইরে অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে অথবা সেখান থেকে দেশত্যাগ করলে তা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। মূলত বন্ডধারীদের গতিবিধি ও অবস্থান সঠিকভাবে ট্র্যাকিং এবং তারা সময়মতো দেশ ছাড়ছেন কি না তা নিশ্চিত করতেই এ কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে, ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু হবে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। কনস্যুলার অফিসার প্রথমেই যাচাই করবেন আবেদনকারী মার্কিন আইন অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার যোগ্য কি না। অফিসার যখন মনে করবেন আবেদনকারীর নথিপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিক এবং তাকে ভিসা দেয়া যেতে পারে, কেবল তখনই তিনি চূড়ান্ত শর্ত হিসেবে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানতের বিষয়টি সামনে আনবেন। অর্থাৎ, কোনো আবেদনকারীকে বন্ড জমা দিতে বলা মানেই হলো তিনি ভিসা পাওয়ার প্রাথমিক সবুজ সংকেত পেয়েছেন। বন্ডের টাকা জমা দিয়ে রসিদ দেখানোর পরেই কেবল পাসপোর্টে চূড়ান্তভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে।
আরও পড়ুন:
ভিসা অফিসার মূলত আবেদনকারীর ‘রিস্ক প্রোফাইল’ দেখে বন্ড নির্ধারণ করবেন। যাদের নিজ দেশে ফিরে আসার জোরালো সামাজিক বা অর্থনৈতিক বন্ধন নেই এবং যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অফিসার সন্দেহ করবেন, তাদেরকেই এ জামানত দিতে বলা হবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীর বর্তমান চাকরি, মাসিক আয়, স্থাবর সম্পত্তি এবং ইতোপূর্বে অন্য কোনো দেশ ভ্রমণের ইতিহাসকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অফিসারের মূল্যায়ন অনুযায়ী বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে।
নতুন এ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান ও আফগানিস্তানসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। তালিকার অন্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মিয়ানমার, লাওস, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, চাদ, ইরিত্রিয়া, গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। যাদের বর্তমানে বৈধ মার্কিন ভিসা আছে, তাদের জন্য এ নিয়ম কার্যকর হবে না। শুধু ২১ জানুয়ারির পর যারা নতুন বি-১ (ব্যবসায়িক) বা বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রেই এ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
বন্ডের অর্থ শুধু মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। যদি ভিসা পাওয়া ব্যক্তি সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত ৩টি বিমানবন্দরের একটি ব্যবহার করে নিজ দেশে ফিরে আসেন, তবেই তিনি পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন। তবে কনস্যুলার অফিসারের লিখিত নির্দেশ পাওয়ার আগে কোনো অর্থ জমা না দিতে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন না করতে আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।





