২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝালকাঠির ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। মাত্র দুটি রাজস্ব পদ, একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন ফিমেল মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও জনবল কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারমধ্যে ৩ বছর ধরে শূন্য রয়েছে একমাত্র মেডিকেল অফিসার পদটিও। জরুরি প্রয়োজনে অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসক এনে চালানো হয় অপারেশন।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘চিকিৎসা নাই বললেই চলে, কারণ হলো ডাক্তার নাই। যার কারণে মা-বোনদের কষ্ট করে, গর্ভবতী মায়েদের আমাদের বরিশালে যেতে হচ্ছে এবং এখানে বাইরে যেমন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন গাইনি ডাক্তারদেরকে দেখানো হচ্ছে।’
বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে দুজন অফিস সহায়ক ও ৩ জন পরিদর্শিকাকে সংযুক্ত করে কোনো মতে চালানো হচ্ছে কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে নেই অ্যাম্বুলেন্স চালকও।
অফিস পরিদর্শিকা বলেন, ‘আমরা তিনজন কর্মরত আছি এফডব্লিউভি। সেবা দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আরও লোকজন হলে আমরা সেবার মান আরও ভালো করতে পারব।’
আরও পড়ুন
কর্মরত নার্স বলেন, ‘অ্যানেস্থেশিয়ার ডাক্তার দুই দিন আছে এখানে, কিন্তু সার্বক্ষণিক নাই। সার্বক্ষণিক যদি একজন দেয়া যায়, তাহলে আমাদের এখানে সার্বক্ষণিক সিজার হইলে নরমাল ডেলিভারি আরও বাড়বে পরিমাণে।’
কেন্দ্রটিতে ৩৪ ধরনের ওষুধ বিতরণের কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৩ ধরনের ওষুধ ও খাবার স্যালাইন। সীমিত জনবল নিয়েই সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।
ঝালকাঠি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ‘পদগুলো ক্রিয়েট করলে এবং এ পদে যদি স্থায়ী কর্মী দেয়া যায়, সেক্ষেত্রে কাজের গতিটা আরও ফিরে আসবে। তারপরও যারা বর্তমানে যারা আছে, আমি তাদের নিয়ে সেবা আরও ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি।’
নতুন পদ সৃজন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের।
ঝালকাঠি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তাপস কুমার শীল বলেন, ‘আগামীতে হয়তো নিয়োগ কার্যক্রম চালু হলে এবং যদি আমাদের এ সেন্টারে আরও কয়েকটি পদ সৃজন হয়, তাহলে ওই পদে যদি আমাদের এফডব্লিউভিসহ অন্যান্য জনবল পাই, তাহলে সেবার মান আরও ত্বরান্বিত হবে।’
মা ও শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





