হামের সংক্রমণ রোধে ৯৮% লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবি সরকারের, দ্বিমত ইউনিসেফের

হাসপাতালে হাম সংক্রমণে ভর্তি রোগী
হাসপাতালে হাম সংক্রমণে ভর্তি রোগী | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে দিনকে দিন হামের সংক্রমণ বেড়েই চলছে। মাসব্যাপী চলা টিকা কার্যক্রম নিয়ে সরকার বলছে, প্রায় পৌনে ২ কোটির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় এসেছে । তবে ইউনিসেফ বলছে, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার বাইরে শহরাঞ্চলে ৩৫-৪০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৫-২০ শতাংশ শিশু আছে যারা এখনও টিকার আওতায় আসেনি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেয়ার পরামর্শ সংস্থাটির।

রাজধানীর মোহাম্মাদপুর এলাকার টিকা কেন্দ্রের ভিড় নিত্যদিনের। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ইপিআইয়ের সঙ্গে গেল মাসের ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইনে প্রতিদিনই আসছেন অভিভাবকরা।

এক অভিভাবক বলেন, ‘টিকা দেয়াটাই হামের জন্য কার্যকর। এছাড়া এর তো কোনো প্রতিকার দেখছি না।’

হামের সংক্রমণ রোধে ৫ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করে সরকার৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ টিকা দিয়েছে তারা।

তবে ক্যাম্পেই পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফ বলছে, ঢাকার বাইরে অন্তত ৩০ শতাংশ শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি। ঢাকার ভিতরে এ সংখ্যা ৪০ শতাংশ হবে। এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনা না গেলে কমানো যাবে সংক্রমণ।

ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যখন চেক করছি ওভারঅল কাভারেজ ৯৮ শতাংশ। কিন্তু আমরা দেখছি যে শহরের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাচ্চা টিকা পায়নি। কিছু অভিভাবক মনে করছেন রুটিন অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা পেয়েছে, তাহলে আমি আবার কেন দিবো। এ ধরনের ধারণা যাদের আছে তাদের আমি বলব এ ধরনের টিকা বা ক্যাম্পেইনের যে টিকা রয়েছে এটা বাড়তি ডোজ।’

গেল কয়েকবছর ধারাবাহিকভাবে কমেছে ইপিআই শিডিউল ভ্যাক্সিন কার্যক্রম। এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রায় নির্মূল হতে যাওয়া অন্য রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ড. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, আমার মূল ফোকাস হবে রুটিন ইপিআই। রুটিন ইপিআইতে শুধু হামের টিকা দেয়া হয় না। এখানে আমরা ৯টা টিকা দেই। ৯টা টিকা দিয়ে ১২টা রোগ প্রতিরোধ করি। রুটিন ইপিআইয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৯৪ হাজার শিশুর জীবন বাঁচে।’

গেলো কয়েক বছরে ভাটা পড়েছে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনেও। অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি শিশু পায়না মায়ের বুকের দুধ, নানা কারণে বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে হামে আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর হার বেশি বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, বাংলাদেশে ২০ শতাংশ শিশুর ভিটামিনের ডেফিসিয়েন্সি থাকে। বিশেষ করে আরবান এরিয়ায় ঘনবসতির মধ্যে এটা দেখা যায়। বস্তি এরিয়ায় এ হার ৩০ শতাংশের মতো। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া জটিলতা তৈরি হওয়ার পিছনে তিনটি কারণ। প্রথমত বুকের ‍দুধ খাওয়ানো হয়নি, দ্বিতীয়ত পুষ্টিহীনতা আছে, ‍তৃতীয় কারণ হচ্ছে ভিটামিনের ডেফিসিয়েন্সি।’

শিশু অপুষ্টি যে কোনো সময় মহামারি আকারে দিতে দিতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এএইচ