এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার শক্তিশালী টাইফুনের কবলে চীন। অব্যাহত তাপপ্রবাহের মধ্যেই দাবানলে পুড়ছে স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও গ্রিসের বনাঞ্চল। ইউরোপ থেকে দাবানলের ব্যপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও।
আবহাওয়ার প্যাটার্নে ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে ফের ঘুরেফিরে বিশেষজ্ঞদের কাঠগড়ায় জলবায়ু পরিবর্তন। দশকের পর দশক ধরে যে জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে আসছিলেন আবহাওয়াবিদরা, প্রকৃতিতে আজ তা স্পষ্ট। একারণে গরম, বর্ষা কিংবা শীত, কোনো ঋতুতেই প্রকৃতি তার আপন নিয়ম কিংবা ছন্দে নিজেকে মেলে ধরছে না ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এল নিনো বা লা নিনার মতো প্রাকৃতিক কারণ নয়, আবহাওয়ার প্যাটার্নে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী মনুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের দুটি ধরণ রসবি তরঙ্গ ও জেট স্ট্রিমগুলো আরও তরঙ্গায়িত হয়ে ওঠে, যা আকস্মিক ও বৃহৎ পরিসরের তাপমাত্রার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
জেট স্ট্রিম হলো বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অত্যন্ত তীব্র গতিতে প্রবাহিত বায়ুর সরু স্রোত। অন্যদিকে, রসবি তরঙ্গ হলো জেট স্ট্রিমের সেই আঁকাবাঁকা ও সর্পিল গতিপথ। এই তরঙ্গগুলো বিষুবরেখা অঞ্চলের উষ্ণ বাতাসকে মেরুর দিকে এবং মেরুর ঠাণ্ডা বাতাসকে বিষুবরেখার দিকে প্রবাহিত করে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে মানবসৃষ্ট কারণে রসবি তরঙ্গ কখনও কখনও এক জায়গায় স্থির হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে খরা, হিটওয়েভ বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়াবিদদের শঙ্কা, এই পরিবর্তনগুলো সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়ার প্যাটার্নকে আরও বেশি অস্বাভাবিক করে তুলবে এবং এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। কেননা এর প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সম্পদের অভাব রয়েছে এসব দেশে। পাশাপাশি গরম ও ঠাণ্ডা অবস্থার মধ্যে আকস্মিক পরিবর্তন মানবদেহে চাপ সৃষ্টি করে। এতে, বাড়ছে অসুস্থতা ও মৃত্যু ঝুঁকিও।





