গতিশীল এ নগরকে এখন আর তিলোত্তমা বলা যায় না। সময়ের সাথে সবার চোখের সামনে শহরে কংক্রিটের আচ্ছাদন তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে ঢাকা এখন ঘনবসতিপূর্ণ এক মেগাসিটির নাম। এখানে ইট, পাথর ও সড়কের পিচ দিনের বেলায় প্রচুর তাপ শোষণ করে, রাতে তা বেরিয়ে আসে। যে কারণে চলতি মাসে সমানতালে আবহাওয়ার বৈরী রূপ দেখেছে দেশবাসী।
আবহাওয়াকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলেছে জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানি, বন উজাড় ও শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড। এরসাথে যোগ হয়েছে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প। যার ফলে বৃষ্টি কমে অনুভূত হচ্ছে তীব্র গরম।
জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক 'বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়টাতে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। যা পুরো বিশ্বের আবহাওয়ায় উষ্ণতা বাড়িয়ে দেবে।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে অসহনীয় তাপে অসহ্য হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।
আরও পড়ুন:
নগরবাসীরা জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে জনজীবন ভোগান্তিতে পড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানান, চলতি মাসে আরও দুইটি তাপপ্রবাহ আসতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘জুন মাসে এসে এখন আমরা এল নিনোর একটা কন্ডিশনের মধ্যে প্রবেশ করেছি। আমরা জানি যে এল নিনো কন্ডিশন কিন্তু বাংলাদেশে অতটা ইমপ্যাক্ট থাকে না, তারপরও কিছুটা ইমপ্যাক্ট পড়ে। এটা গ্লোবালি একটা ইমপ্যাক্ট থাকে। তা কোথাও হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে দুই-একটা স্টেশনে তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে, ৪০ ডিগ্রি টাচ করতে পারে এবার।’
আর ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ফলে বাতাসের বেগ কমে গেছে। সেক্ষেত্রে সবুজায়ণের বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আছিব আহমেদ বলেন, ‘গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচারে যদি মনোযোগ দেই, ইভেন যে পিচগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে পারমিয়াবিলিটি আমি আনি এবং পিচের যে আমার মেটেরিয়ালগুলো সেগুলোর মধ্যে যদি চেঞ্জেসগুলো আমি আনি, তাহলে কিন্তু সেই যে ইমপ্যাক্ট, যে আরবান হিট আইল্যান্ড হওয়ার ইমপ্যাক্টটা সেটা কিন্তু অনেকাংশেই কমিয়ে ফেলা সেটা সম্ভব। এগ্রিকালচারাল ল্যান্ডটা আরবান ল্যান্ডে যেভাবে ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছে, সেই জায়গাগুলোতেও কিন্তু আমার এই সাস্টেইনেবিলিটিকে ফলো করতে হবে।’
অপরদিকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বলেন, সামনের দিনে গরম আরও বাড়বে, তখন বহুবিধ অসুবিধা তৈরি হবে, তাই সামগ্রিক নীতির পরিবর্তন জরুরি।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন দেশের সার্বিক পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইনটেনসিটি, ফ্রিকোয়েন্সি, ডিউরেশন, টাইমিং বদলাবে। জলবায়ু পরিবর্তনটা বাংলাদেশের সকল প্রজেক্টে বিবেচনা করে এগোতে হবে।’
আগামী তিন মাসে দেশজুড়ে আট থেকে ১০টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। চলতি বছরে এত বিস্তৃত এলাকায় একসঙ্গে তাপপ্রবাহের ঘটনা আগে দেখা যায়নি। জুন মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে এবার।





