আজ (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা জানান, টানা সারা দিন না হলেও ঘুরে-ফিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। আগামী তিন থেকে চার দিন এ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ‘আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সকাল ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। এছাড়া ভোলায় ১৫১, খেপুপাড়ায় ১১৪ এবং কুমিল্লা ও সীতাকুণ্ডে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সারা দেশের বৃষ্টির চিত্র তুলে ধরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ‘এ মুহূর্তে উত্তরের রাজশাহী, পাবনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বৃষ্টি তুলনামূলক কম। তবে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চল এবং বরিশাল, মোংলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সার্বিকভাবে আগামী কয়েকদিন রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম থাকতে পারে।’
আজ সকালে কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তায় বলা হয়, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে তীব্র বজ্রপাত।
অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের আকাশে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দেশের সবকটি বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে।
টানা এই অতিভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া দপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল যশোরে, ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেঘ-বৃষ্টির কারণে আপাতত দেশজুড়ে কোনো তাপপ্রবাহ নেই। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় এই বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি হয়েছে।





