এপ্রিলে তীব্র তাপপ্রবাহের আভাস

তাপপ্রবাহ
তাপপ্রবাহ | ছবি: সংগৃহীত
0

এপ্রিলের শুরুতে তাপদাহের আভাস দিয়ে আবারও কিছুটা সহনীয় হয়েছে প্রকৃতি। তবে মধ্য এপ্রিলে আবারও ফিরতে পারে তাপপ্রবাহ। থাকবে টানা ১৫ দিন। এদিকে, গত মাঘ মাসেও শীতের তীব্রতা গত কয়েক বছরের তুলনায় কমই ছিলো। আবহাওয়ার এমন আচরণ কি স্বাভাবিক? আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণই বা কী?

বসন্তের শেষ ক’টা দিন। চৈতালি হাওয়ায় সূর্যের সাথে পত্রপল্লবের লুকোচুরি খেলা। তবে প্রকৃতির টানাপোড়েন বোঝা দুঃসাধ্য। এ রোদ তো, হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি। এপ্রিলের প্রথম ৪ দিন মৃদু তাপদাহের পরের ৬ দিন অবশ্য সহনীয় তাপমাত্রা। কিন্তু এপ্রিলের ১০ তারিখের পর আসছে তীব্র গরম। টানা ১৫ দিন তাপদাহে পুড়বে দেশ।

২০২৩ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও ২০২৪ ছিলো উষ্ণতম বছর। সে বছর একবারে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ২৫ সালে স্থিতিশীল থাকার পর ২৬ সাল আবারও তাপমাত্রা ও তাপদাহ দুটোই বাড়বে-এমন আভাস দিচ্ছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘২০২৬ সালে অনুমান করা হচ্ছে তাপমাত্রা আরও বাড়বে। কিন্তু এখন থেকে ৫০ বছর পর তাপমাত্রা আরও বাড়বে। তখন ৩-৪ ডিগ্রি বাড়বে। তার জন্য এখন থেকে প্রস্তিুতি নেয়া প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:

গরমে এ মৌসুমে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। বৃষ্টির সাথে যোগ হবে শিলা। জলবায়ুর দীর্ঘদিনের পরিবর্তনে আবহাওয়ায় এসব তারতম্য দেখা যবে হরহামেশাই।

অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘তাপমাত্রার কারণে পরিবেশে আরও উল্টাপাল্টা জিনিস পত্র দেখেতে পাবে। সময়ের আগে বৃষ্টি হওয়া কিন্তু একধরণের সংকেত।’

এল-নিনো এবং লা-নিনা হলো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি একটি জলবায়ুর ধরন। দু’জনের সঙ্গে সমুদ্রের গভীর সম্পর্ক। এল-নিনো উষ্ণ, আর লা-নিনা শীতল আবহাওয়ার জন্য দায়ী। আবহাওয়ার হুটহাট পরিবর্তনে এল-নিনো এবং লা-নিনার প্রভাব আছে বলে মনে করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আসিব আহমেদ বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তেনের জন্য এল-নিনো এবং লা-নিনার ইফেক্ট আছে।’

অবশ্য উপমহাদেশের আবহাওয়ার এমন আচরণে এল-নিনো, লা নিনার চেয়ে স্থানীয়ভাবে পরিবেশ ধ্বংস হওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেআর