বিপৎসীমার ওপরে নেত্রকোণায় ভুগাই-কংশ নদীর পানি

পানির নীচে বোরো ধান
পানির নীচে বোরো ধান | ছবি: এখন টিভি
0

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী এলাকার নদীগুলোর পানি বেড়েছে। আজ (বুধবার, ২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই নেত্রকোণার সীমান্ত জারিয়া পয়েন্টে ভুগাই-কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়াও কলমাকান্দার উব্দাখালী নদীর পানি বেড়েই চলেছে। মগড়া, ধনু বউলাই নদীর পানিও বাড়তি। এদিকে টানা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধায় এবার ফসল এখনো অর্ধেক কাটাতে পারেনি কৃষকরা। তার ওপর খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদীর পানি বেড়েই চলেছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ভুগাই-কংশ নদীর পানি বেড়েছে। বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জারিযা স্টেশন এলাকায়। এই পানি আরও বাড়তে পারে। এছাড়া গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বারিপাত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। হাওরের কৃষকদেরকে দ্রুত ফসল কাটার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে সতর্ক করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল তিনটা পর্যন্ত ভুগাই-কংস অববাহিকা: নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদীসমূহের পানি সমতল ছিলো। গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়ে উভয়েই প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই অববাহিকায় আগামী তিন দিন মাঝারি-ভারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নেত্রকোনা জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আরও পড়ুন:

ভুগাই-কংস অববাহিকার উপ-নদী অববাহিকা সমূহের সোমেশ্বরী অববাহিকা: নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী ও মগরা নদীসমূহের পানি সমতল রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। সোমেশ্বরী নদী কমলাকান্দা পয়েন্টে ও মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিলো। পুরোটাই হাওরাঞ্চল। এছাড়াও উব্দাখালি নদী পাড়ের কলমাকান্দা উপজেলায় ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। তারমধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর। এ পর্যন্ত ২৫ ভাগ জমির ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষক সোহান বিন নবাব জানান, তাদের অর্ধেকের চেয়ে বেশি জমি এখনো কাটা হয়নি। এবার জলাবদ্ধতায় সব জমিই কম বেশি পানিতে নিমজ্জিত।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরে এরই মধ্যে ৬৫ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। আর পুরো জায়গায় প্রায় ২২ শতাংশ ধান সম্পন্ন হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন নদ নদীর পানি বেরিয়েছে যার ফলে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ফসল জমি প্লাবিত হয়েছে। পূর্বের তথ্য অনুযায়ী এরই মধ্যে ২ হাজার ২১৫ জমি ফসল ইতি মধ্যে পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তবে হাওরে পানি ঢুকছে যাতে করে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে।’

এফএস