অনুষ্ঠানটি চারটি সেশনে বিভক্ত ছিল। উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে আলোচনায় অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, সিপিপি পরিচালক আহমাদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আসিফ আহসান, ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রচারক ফাতিহা আয়াত, দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক শেখ রোকন, ইকো বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মুকিত বিল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে, ইসলামিক রিলিফের হেড অব প্রোগ্রাম এনামূল হক সরকার, আনোয়ার হোসেন, ইউএনডিপির লজিক প্রকল্পের যুব সমন্বয়কারী শাকিলা ইসলাম, জাইকার জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, 'স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই অভিযোজন সম্ভব নয়।'
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, 'যুবসমাজ শুধু জলবায়ু সংকটের শিকার নয়, তারা উদ্ভাবক ও সমস্যার সমাধানকারী। আমাদের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যাতে আমরা সবার জন্য একটি জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।'
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যথাক্রমে এএম নাসির উদ্দিন এবং সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন যুব প্রতিনিধি খাদেমুল রাশেদ ও ফারহানা রাব্বী রুপন্তী।
চারটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, যশোরের মনিরামপুর এবং সিলেট সিটি থেকে আগত তরুণ প্রতিনিধিরা তাদের এলাকায় জলবায়ু সচেতনতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও অভিযোজন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। সিলেটে প্লাস্টিক দূষণ রোধে রাস্তার নাটক, জলবায়ু অধিবেশন ও ধর্মঘটের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা জানান, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৩-২০৫০ বাস্তবায়নে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় উৎস থেকে এই তহবিল সংগ্রহ জরুরি, অন্যথায় জলবায়ু সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যুব প্রতিনিধি দলের পক্ষে তরুণ জলবায়ু কর্মী আরুবা ফারুক একটি যুব ঘোষণা উপস্থাপন করেন। এতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বে অভিযোজন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঘোষণায় ন্যাপ ও এনডিসি পরিকল্পনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং পুরুষদের সহযোগী হিসেবে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়।
এছাড়া, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ সহনশীলতা নীতিতে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ, আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা, বিনামূল্যে আবহাওয়া তথ্য বিনিময় এবং স্থানীয় নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।