বিদেশে এখন
পরিবেশ ও জলবায়ু

ঝড়, বন্যা, ভূমিধস ও দাবানলে বিপর্যস্ত বিশ্ববাসী

ঝড়, বন্যা, ভূমিধস ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বিশ্ববাসী। ভারতের মুম্বাইয়ে ধূলিঝড়ে বিলবোর্ড ভেঙে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৪ জন। আহত অর্ধশতাধিক। এদিকে আকস্মিক বন্যার মধ্যে আগ্নেয়গিরির ছাই ও কাঁদা এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা দ্বীপ। ব্রাজিলে বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলছে। অন্যদিকে দাবানলে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে পুড়ে ছাই ২৪ হাজার একর বনভূমি।

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে একটু স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিল ভারতের মুম্বাইবাসী। সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় বৃষ্টির শুরুটা হয় ধূলিঝড়ের মাধ্যমে। তবে এই ঝড়ই ডেকে আনলো প্রাণহানি।

ভারতের মুম্বাইয়ে ধূলিঝড়ে বিলবোর্ড ভেঙে গিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ঘাটকোপার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থিত ১শ' ফুট দীর্ঘ বিলবোর্ড ভেঙে পড়ে পথচারিদের ওপর। মুহূর্তেই প্রাণ যায় কয়েকজনের। বিলবোর্ডের নিচে আটকে পড়াদের বের করতে রাতভর কাজ করেন উদ্ধারকারীরা। আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা দ্বীপে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বাড়ছে প্রাণহানি প্রবল বৃষ্টিতে মারাপি ও ইবু পর্বত থেকে উদগীরণ হয়েছে আগ্নেয়গিরির ছাই ও কাঁদা। ধসে গেছে দুই শতাধিক স্থাপনা ও নষ্ট প্রায় ১শ' হেক্টর জমির ফসল। ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে বাড়িঘর। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দ্বীপটির ৩টি জেলা বাসিন্দা।

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা দ্বীপে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস। ছবি: সংগৃহীত

বাসিন্দাদের একজন বলেন, 'আমাদের প্রথম কাজ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা ও সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া। এলাকার নারীরা আশ্রয় কেন্দ্রে সবার জন্য খাবার তৈরি করছে।'

আরেকজন বলেন, 'এলাকায় সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। মাত্র কয়েকটি স্থানে সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু জায়গাগুলো অনেক দূরে।'

দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে ব্রাজিলের বন্যা পরিস্থিতি। রিও গ্রান্দে দো সুল রাজ্যের তাকুয়ারি ও কাই নদীর পানি ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হওয়ায় কয়েকটি অঞ্চলে আবারো দেখা গেছে আকস্মিক বন্যা। এখনো নিখোঁজ শতাধিক বাসিন্দা। বন্যায় আটকে পড়াদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে উদ্ধারকারীরা। এদিকে বাস্তুচ্যুত ৬ লাখের বেশি মানুষের মালামাল লুট ঠেকাতে দিনভর টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

ভয়াবহ হচ্ছে ব্রাজিলের বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

বাসিন্দাদের একজন বলেন, 'বন্যার কারণে জীবনে প্রথমবারের মতো আমার চোখ দিয়ে পানি ঝরেছে। সারাজীবনের সম্বল নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে গেছে।'

ব্রাজিলের ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্সেলো দুর্তা বলেন, 'কিছু ক্ষেত্রে শহরের স্থাপনাগুলো বন্যায় ভেসে গেছে। পুনরায় একই স্থানে স্থাপনা তৈরি করা সুবিবেচকের মতো কাজ হবে না। আমরা প্রকৃতির বিরুদ্ধে যেতে পারবো না। তাই আমাদের নগরায়নও প্রকৃতিকে মাথায় রেখে সাজাতে হবে।'

বছর ব্যবধানে আবারো দাবানলে পুড়ছে কানাডা। উত্তর আমেরিকার দেশটির দেড় শতাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও আলবার্টার পরিস্থিতি। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে পুড়ে ছাই ২৪ হাজার একর বনাঞ্চল। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কানাডিয়ানদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জাস্টিন ট্রুডোর মন্ত্রিসভা।

দাবানলে পুড়ছে কানাডা। ছবি: সংগৃহীত

কানাডা জরুরি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী বোউইন বলেন, 'উত্তর পূর্বে বসবাসকারী সকলের জন্যই এটি ভয়াবহ পরিস্থিতি। তবে আপনারা একা নন। আমরা একসাথে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করবো।'

কানাডার দাবানলের ছাই ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। মিনেসোটাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪টি অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে বায়ুমান সতর্কতা।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর