হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলা: ৬৬ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | ছবি: সংগৃহীত
0

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৬৬ শিক্ষার্থীকে চার ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ছয় শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১০ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে।

আজ (বুধবার, ১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২১ মে দুপুর আড়াইটার দিকে শহিদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শহিদ নুর হোসেন হলে প্রবেশ করে। এসময় তারা কর্তব্যরত সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলাম ও সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরদিন ২২ মে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভায় অভিযুক্ত ৬৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুন:

অফিস আদেশ অনুযায়ী, উশৃঙ্খল আচরণের দায়ে আট শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার, লিখিত সতর্কীকরণ এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

হাতে অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুরের অভিযোগে ৪৬ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বহিষ্কার এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া কর্তব্যরত অবস্থায় সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. নাইমুর রহমান দূর্জয়, অর্থনীতি বিভাগের সাকির মাহমুদ, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. সৌরভ আহমেদ, ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আসাদুজ্জামান সাগর, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক এবং ইংরেজি বিভাগের আসিফ হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন স্থায়ী শাস্তি দেয়া হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তি বাতিল করা হতে পারে।

আরও পড়ুন:

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত বাতিল বলে গণ্য হবে।’

এসএস