বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ জানিয়েছেন, ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে আলোকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হচ্ছে।
ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় সম্ভাব্য বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ উৎপাদনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বাসস'কে বলেন, 'ঈদের সময় অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। বৃষ্টি হলে চাহিদা আরও কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ঈদে ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে। কিছু ইউনিট নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়াও হেভি ফুয়েল অয়েল বা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে যাতে চাহিদা বেশি হলে পূরণ করা সম্ভব হয়। আমাদের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং ঈদের সময় সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে অনলাইন সভার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পিডিবির চারটি জোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে কোনো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করা যায়।’
বিপিডিবি জানিয়েছে, ঈদের সময় শিল্পাঞ্চল ও অফিস-আদালতে বিদ্যুতের চাপ কমে যাওয়ায় আবাসিক এলাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে। এছাড়া জাতীয় গ্রিডের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো আগেই পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।
ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন দেশব্যাপী বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে মাঠ পর্যায়ে প্রকৌশলী, লাইনম্যান ও কারিগরি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর অধীনস্থ সকল দপ্তর বা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল বা ছুটিতে যে এলাকায় অবস্থা করবেন সেখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। একই সঙ্গে তারা পরিদর্শন ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর প্রেরণ করবেন।
ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের আগেভাগে রিচার্জ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।—বাসস





