গরমকালে বাসাবাড়িতে সেহরি-ইফতারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। অপরদিকে উৎপাদন খাত ও মার্কেটগুলোতে ঈদের প্রস্তুতির কারণেও চাপ পড়ে বিদ্যুতের ওপর। প্রতিবারই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে দেশবাসী।
যদিও বিগত সময়ে ৩০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার গল্প শুনিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। যা ছিল শুধু কাগজে কলমেই।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, এবার শীত মৌসুমে রাজধানীতে বিদ্যুৎ লেগেছে ১ হাজার থেকে ১২শ' মেগাওয়াটে। যা ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই হাজারে, আর রমজানে গিয়ে চাহিদা দাঁড়াবে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটে।
সাধারণত সর্বোচ্চ গরমের সময় ডিপিডিসি ও ডেসকো মিলে সর্বোচ্চ চাহিদা ৪ হাজারের আশপাশেই থাকে।
ডেসকো কর্তৃপক্ষ বলছে, রমজান মাস বিবেচনায় ঘাটতি সমন্বয় করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পুরোটা সরবরাহ করলে চাহিদামত বিতরণ করতে পারবে তারা।
ডেসকোর অপারেশন বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী জুলফিকার তাহমিদ ফোন কলে বলেন, ‘কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের অবকাঠামো ওভাবেই তৈরি করা হয়েছে। আমরা পনেরশ থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করতে পারবো।’
বিগত রমজানে সারাদেশে প্রতিদিন লোডশেডিং হয়েছে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে, এবার রোজায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
যদিও, আগের মতো এবারও ভরসা আমদানি গ্যাস-জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এরমধ্যে আদানির বিদ্যুতে আশার বানী পিডিবি'র।
তবে, ভারত-বাংলাদেশ টানাপড়েনের মধ্যে আদানির বিদ্যুতের ওপর ভরসা না করে বরং পুরনো পাওয়ার স্টেশনগুলো সংস্কার করে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালকের।
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, ‘বেশ কয়েকটা পাওয়ার স্টেশন মেইটেন্যান্সের অভাবে বন্ধ আছে। দীর্ঘদিন থেকে এগুলো বন্ধ রয়েছে। এ সরকার আসার পরও তো ছয় মাস হয়ে গেল। এগুলো যদি সংরক্ষণ করা হতো তাহলে আরো পাঁচ ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এখানে আসতো। গার্মেন্টস থেকে শুরু করে অনেক কিছু নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার ঝগড়া চলছে।’
বছরের শুরুতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯ হাজার মেগাওয়াটেরও কম। শীত কমায় তা বেড়ে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াটে। এবার রোজায় সর্বোচ্চ ১৬ হাজার এবং পুরোপুরি গ্রীষ্মে চাহিদা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার মেগাওয়াট।
তবে, চাহিদার বিপরীতে এবারও ১৩ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদনের ঘোষণা দিতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ।