কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল নেত্রকোণা-২ আসনে ভোটার প্রায় পাঁচ লাখ। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তাদের প্রধান দাবি, শিল্পায়নের মাধ্যমে কাজের ব্যবস্থা করা। নগরীর চল্লিশায় প্রতিষ্ঠিত এখানকার একমাত্র বিসিক শিল্পনগরী গ্যাস সংকটে প্রায় অচল। ২০০৮ সালে ১৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা বিসিকে ৬৮টি শিল্প প্রকল্পের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি বড় প্রকল্প থাকলেও কার্যক্রম চালু রয়েছে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠান। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদনের খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি লোকসানও হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের।
স্থানীয়রা জানান, গ্যাস ছাড়া একটি শিল্পকারখানা চলতে পারে না। উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর গ্যাস থাকলে খরচও কম হতো। নেত্রকোণার বিসিক শিল্পনগরী উপ-ব্যবস্থাপক সুব্রত কুমার কর বলেন, ‘তিতাস থেকে বিসিক শিল্পনগরী পর্যন্ত গ্যাস সাপ্লাই লাইন টানার জন্য ২০২৪ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সব কিছুর ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে লাইন টানার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
গ্যাস সংকটের দুর্ভোগ কেবল বিসিকেই সীমাবদ্ধ নয়। জেলার একমাত্র সিএনজি স্টেশনেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় যানবাহন চালকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আরও পড়ুন:
সিএনজিচালকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় গ্যাসের জন্য। দিনে মাত্র ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মত গ্যাস পাওয়া যায়।
নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি পুরনো প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিচ্ছেন নির্বাচনের প্রার্থীরা।
নেত্রকোণা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হবে।’
আর নেত্রকোণা-২ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ‘আমার এলাকার উন্নয়নের জন্য আমি যেকোনো কিছু করার জন্য উদ্যোগ নেব।’
গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত হলে শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে—এমন প্রত্যাশায় আগামী দিনের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন নেত্রকোণাবাসী।





