২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোস্তা গ্রামে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবুল হোসেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি খেজুরের কাঁচা রস পান করে নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। এ ঘটনার পর মানিকগঞ্জে কাঁচা রস পানে নিরুৎসাহিত করার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরং কিছু এলাকায় কাঁচা রস পান নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ভাদিয়াখোলা এলাকায় খেজুর বাগানের ভেতরেই কাঁচা রস বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানীর অনেকেই এখানে আসেন কাঁচা রস পান করতে। গাছে হাঁড়ি ঝোলানো হলেও কোথাও নেই নিরাপত্তা জাল বা ঢাকনার ব্যবহার। দর্শনার্থীরা জানান, নিপাহ ভাইরাসের সতর্কতার জন্য গাছগুলিতে জাল ব্যবহার করা হয়েছে।
খেজুরের কাঁচা রস নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই খেজুরের রস কাঁচা না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘রসের জন্য যেখানে হাঁড়িগুলো বাঁধা হয়, সেই জায়গায় বাদুর বসে। সাধারণত বাদুর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে। যদি কেউ কাঁচা রস খায়, তাহলে সে নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। আর নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই।’
হরিরামপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার খেজুর গাছ থেকে কাঁচা রস সংগ্রহ ও বিক্রি করা হয়। এ কারণে মানিকগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।





