শিল্প-কারখানা
অর্থনীতি

ঈদের আগে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানির চাপ

ঈদের ছুটির আগে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের চাপ দ্বিগুণ। যেকারণে প্রায় ৫ হাজার ট্রাক-কাভার্ডভ্যান আটকা পড়েছে কনটেইনার ডিপোর সামনে। পরিবহন সংকটে বিভিন্ন রুটে ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ। সংকট নিরসনে একযোগে পণ্য আমদানি-রপ্তানি না করতে স্টেক হোল্ডারদের চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ ও কনটেইনার না থাকায় এই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে শিপিং এজেন্টরাও।

কোরবানির ঈদের ছুটির আগে আমদানি ও রপ্তানির চাপ প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই চাপে বেসামাল বন্দর, শিপিং লাইন ও চট্টগ্রামের ২১টি কনটেইনার ডিপো।

সক্ষমতার অতিরিক্ত রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়ি চলে এসেছে ডিপোতে। শেডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় প্রতিটি কনটেইনার ডিপোর সামনে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির জট। পণ্য, খালাসে সময় লাগছে এক থেকে চার দিন। এই সুযোগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামমুখী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকায়।

ট্রাক চালকদের একজন বলেন, 'একেক জায়গা থেকে একেক রকম ভাড়া যেমন ঢাকা থেকে ২১ হাজার টাকাতেও আসে আবার কেউ ৩০ থেকে ৪০ হাজারেও আসে।'

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, 'ডিপোগুলোর যে শেড বা ওয়্যারহাউস ক্যাপাসিটি তা রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। আমাদের যে ক্যাপাসিটি আছে সেখানে আমরা প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৩৫শ’ ট্রাক রিসিভ করতে পারি। কিন্তু এখন ট্রাক আসতেছে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার।'

ঈদে ছয় দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। সেই সঙ্গে ব্যাংক, কাস্টম হাউসসহ আমদানি-রপ্তানির সাথে সম্পৃক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তাই ঝুঁকি এড়াতে ঈদের ছুটির আগেই রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলতে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠিয়ে দেন রপ্তানিকারকরা। কিন্তু এতো পণ্য একযোগে রপ্তানিতে হিমশিম খাচ্ছে শিপিং এজেন্টরা।

এম এস সি শিপিংয়ের হেড অফ অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক মো আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, 'টোটাল আমাদের যে মুভমেন্ট সেখানে প্রভাব পড়ছে আমরা অন টাইমে শিপিং করতে পারছি না। যেহেতু জাহাজের সংকট কিছুটা আছে।' 

এ অবস্থায় আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনে দৈনিক ৮ থেকে ১০ হাজার গাড়ির চাপে বন্দরের দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। তাই ঈদের আগে সব পণ্য ডেলিভারি ও রপ্তানি পণ্য শিপমেন্ট না করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে কতৃর্পক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, 'ঈদে বন্ধ থাকবে তাই সবাই দ্রুত রপ্তানির জন্য ট্রাকগুলো বন্দরে পাঠিয়ে দেই।আমরা বন্দর থেকে সবাইকে চিঠি দিয়েছি যেন তারা ঈদের সময়টা কাজে লাগায় ও স্বাভাবিকভাবে সব কিছু করে।'

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দিনে গড়ে তিন হাজার টিইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হলেও বর্তমানে সাড়ে চার থেকে প্রায় ৫ হাজার ডেলিভারি হচ্ছে।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর