বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত জাহাজ বার্থিং, কন্টেইনার ওঠানামা, খোলা পণ্য ওঠানামা ও জায়গার ইজারা থেকে আয় করে বন্দর। কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৫ সালে রাজস্ব খাত থেকে বন্দর ব্যয় করেছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। ব্যয় শেষে সরকারি কোষাগারে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) হিসাবে গত পাঁচ বছরে বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারের কোষাগারে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত পাঁচ বছরের আয়–ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে ওই বছরে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয় ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
তার আগের বছরগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে কঠোর নীতি অনুসরণের ফলে গত দুই বছর রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কে সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করায় কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তি দুই ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দর আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।




