২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল, সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্যালিস্টেয়ার এভিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত চার্টার্ড এয়ারবাসের মালবাহী বিমানকে বিশেষ সম্মানসূচক ওয়াটার ক্যানন স্যালুটে বরণ করে নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সেদিনই ৬০টন দেশিয় তৈরি পোশাক নিয়ে স্পেনের উদ্দেশে উড়াল দেয় বিমানটি—যা সিলেটের ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
আর সর্বশেষ ফ্লাইটটি উড্ডয়ন হয় ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর। ৭ মাসে সিলেট থেকে ৪১টি ফ্লাইটে প্রায় ২ হাজার ৩৫০টন গার্মেন্টস পণ্য ইউরোপের দেশ স্পেনে গেলেও এরপর থেকে যায়নি আর কোনো পণ্য। ফলে কার্যত স্থবির হয়ে পরে সিলেটের রপ্তানিকারকদের বাণিজ্যে সম্ভাবনা ।
২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কার্গো টার্মিনাল কার্যত অচল হয়ে পড়ায় একদিকে যেমন থমকে গেছে সরাসরি রপ্তানির সুযোগ, অন্যদিকে বেড়েছে পরিবহন খরচ, সময় ও ঝুঁকি। প্যাকেজিং ও ল্যাব টেস্টিং সুবিধার অভাবে কার্গো কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সিলেটের কৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে।
এমসিসিআই সভাপতি আব্দুল জলিল জব্বার বলেন, ‘খুব আশাবাদী ছিলাম যে আমরা সিলেট থেকে অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারব। সিলেটের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এ বন্ধের কারণে আমরা আগ্রহ হারয়ে ফেলছি। একটি বিষয় আমি বারবার বলছি এখানে যদি প্যাকেজিং সিস্টেম এবং ল্যাব তৈরি না করা হয়, তাহলে কোনোদিনই টেকসই উন্নয়ন হবে না।’
আরও পড়ুন:
এসসিসিআই সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, ‘কার্গোর পাশাপাশি আমাদের যে ভেজিটেব্যল যাওয়ার কথা ছিলো, এখানে পরীক্ষামূলকভাবে চেক করে তারপর যাওয়া হতো। এখানে একটি ল্যাব বসানোর কথা ছিলো এগ্রিকালচারের সেটিও হয়নি। এখন শুনতেছি ফ্লাইট বন্ধ।’
রপ্তানিকারকরা বলছেন, সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভালো সুবিধা না থাকায় প্রভাব পড়েছে কার্গোর রপ্তানি পণ্যগুলোতে। এছাড়া, সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিমত তাদের।
জালালাবাদ ভেজিটেবলস অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্স গ্রুপ সভাপতি মো. হিযকিল গোলজার বলেন, ‘গামের্ন্টন্স তো সিলেটে নেই। যেহেতু ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসে। আপনারা দেখেছেন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ১২ ঘণ্টা ১৪ ঘণ্টা নিয়ে ট্রাকগুলো আসে। ফলে ফ্লাইট ডিলে হয়ে যায়। আসতে ডিলে হয়ে যাচ্ছে।’
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমেদ বলেন, ‘যেভাবে বিমান বা সিভিল এভিয়েশন সরকার যেভাবে রাজস্ব হারাচ্ছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, বন্দরও হচ্ছে।’
সিলেট থেকে কেন কার্গোফ্লাইট বন্ধ সে ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি কর্তৃপক্ষের।





