‘৫ আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে শুরু হয় নতুন টানাপড়েন। উষ্ণ সম্পর্কে আসে শিথিলতা। বিভিন্ন মিছিল, সমাবেশে জোরালো হয় দিল্লি বিরোধী স্লোগান। সীমান্তেও দেখা দেয় উত্তেজনা। হয় সংঘর্ষও।
তবে, এসবের ছাপ নেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, গেল ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৯৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যা গেলো বারের চেয়ে ১৩০ মিলিয়ন বা ১৫ দশমিক তিন সাত শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পোশাক, পাট ও চামড়া জাত পণ্য অন্যতম।
আর ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৫ হাজার ধরণের পণ্য। গত ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের প্রায় সমান। তবে, গবেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা জটিলতা ব্যবসায়ীদের ভোগাতে পারে।
বাণিজ্য বিশ্লেষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের কম্পেটিটিভ অ্যাডভান্টেজ একটু কমে গেছে। আগে ৫০০ বা ১০০০ টাকায় ভিসা নিয়ে ভারতে যেয়ে ব্যবসা করতে পারতো। এখন কয়েকদিন আগে আমি শুনেছি একটা ভিসায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করছে তারা।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। কূটনৈতিক অস্থিরতা কিংবা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে আপাতত বাণিজ্যে প্রভাব পড়েনি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ভারতে আমদারিকারকরা বাংলাদেশকি প্রায়োরিটিতে রাখবে। একজন ব্যবসায়ীর কাছে সে বিজনেস কোন দেশ থেকে নিলে ভালো প্রফিট পাবে সেটা চিন্তা করবে। স্বাভাবিকভাবে কাস্টমারের জন্য বাংলাদেশ থেকে নেয়ার ক্ষেত্রে বাধার কিছু নেই।’
অথচ চলতি অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৩৫৬ মিলিয়ন ডলার। যা গেলো বারের চেয়ে ৬.৭ শতাংশ কম। তবে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যে নতুন করে করারোপ করায়, তৈরি হয়েছে সম্ভাবনা। এরইমধ্যে অনেক চীনা ব্যবসায়ী বাংলাদেশে পোশাক তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য যোগাযোগ করছেন।
বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ের তুলনায় ব্যবসা কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। এটা সাময়িক। চীনের যে সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে তাতে আমরা আশাবাদী বাংলাদেশে বড় ধরণের বাণিজ্য হবে।’
বাজার গবেষকদের মতে, ভারত বাংলাদেশের যোগাযোগ সুবিধা ও কম দামে পণ্য পাওয়ায় বাণিজ্যের ওপর তেমন প্রভাব পড়েনি।