অর্থ বিনিময়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের নাম ভার্চুয়াল মুদ্রা। এটি এমন এক ধরনের ডিজিটাল সম্পদ, যার কোনো কাগুজে বা ধাতব রূপ নেই। ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর লেনদেন সম্পন্ন হয়।
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে ডিজিটাল অর্থ ব্যবস্থার ধারণা নিয়ে গবেষণা শুরু হলেও ২০০৮ সালে ‘সাতোশি নাকামোতো’ ছদ্মনামে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বিশ্বকে নতুন পথ দেখায়। এর ভিত্তিতে ২০০৯ সালে চালু হয় বিশ্বের প্রথম সফল ক্রিপ্টোকারেন্সি, নাম বিট কয়েন।
ব্লকচেইন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এ মুদ্রা কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়। এরপর একে একে বাজারে আসে ইথেরিয়াম, লাইটকয়েনসহ হাজারো ডিজিটাল মুদ্রা।
গত এক দশকে ভার্চুয়াল মুদ্রার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এর ব্যবহার বাড়লেও অনেক রাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশে ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার ও লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তবুও চোখের আড়ালে থেকে গেলো কি না? তা অনুসন্ধানে মাঠে নামে এখন টিভি। শুরুতেই টাকা দিয়ে ভার্চুয়াল ডলার কেনার চেষ্টা করবো আমরা। দরকার একজন ব্যবহারকারীর।
তার কাছ থেকে জানতে চাই কীভাবে কেনা হবে এ মুদ্রা। চোখের সামনেই দেখিয়ে দিলেন সব। অনলাইন ব্যাংকিং এ টাকা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছে মুদ্রা কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে জানার উপায় নেই।
একজন ব্যবহারকারীর বলেন, ‘আপনি চাইলে যে কোনো পরিমাণের টাকা কিনতে পারবেন।’
এভাবে টাকা কি বিদেশেও পাচার করা যায়। যা হচ্ছে দিনের আলোর মধ্যে। ক্রিপ্টো কাউন্সিল ফর ইনোভেশনের দেয়া তথ্য বলছে বাংলাদেশ ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহারকারীর তালিকায় ১৩ তম স্থানে রয়েছে। দেশে মোট ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৩ লাখ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, ‘কোনো কিছু নিষিদ্ধ করে আপনি বন্ধ রাখতে পারবেন না। বরং এটাকে লিগাল ফ্রেমে নিয়ে আসতে পারবেন তখনই ভালো হবে। আর এখন যে টাকাগুলো যাচ্ছে তা অবৈধভাবে যাচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে এ কিপ্টো কারেন্সি করে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশের বৈধ মুদ্রা নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আমাদের দেশের অনেকে এখন কিপ্টো কারেন্সির সঙ্গে জড়িত হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে সিআইডিসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কাজ করে আসছে। তারা দেখছে কারা এর সঙ্গে জড়িত আর বিষয়টি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’
ভার্চুয়াল মুদ্রা একদিকে যেমন প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও সামনে এনেছে।





