দীর্ঘদিন ধরে বাজারে চাহিদামতো নতুন নোটের সরবরাহ না থাকায়, হাতবদল হতে হতে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে অধিকাংশ টাকা। ফলে এ পচা নোটের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।
তথ্য বলছে, পতিত আওয়ামী সরকারের ছবি যুক্ত এসব নোট বেশ আগেই ছাপানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিশাল অঙ্কের টাকা বাজারে ছাড়া নিয়ে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি হয়েছে। এদিকে চাহিদামতো নতুন টাকা যোগান দিতে পারছে না সরকারি মুদ্রণালয় বা টাঁকশাল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ছাপানো নোট আটকে না রেখে জনগণের প্রয়োজনেই বাজারে ছাড়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায়, অর্থনীতি যে গভীর সংকটে পড়ছে, তার মধ্যে আর অর্থের অপচয় করে টাকা ছাপানো উচিত না। যে টাকাগুলো ছাপানো আছে, এ টাকাগুলোই এখন বাজারে ছাড়া উচিত। কারণ এটা তো রাষ্ট্রের স্বীকৃতি টাকা, সুতরাং এটা ভল্টে রাখলে রাষ্ট্রের আসলে ক্ষতি হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসাঈন সিদ্দিকী বলেন, ‘যে পরিমাণ সর্বশেষ প্রিন্ট করা হয়েছে, পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী বলছি, ভল্টে রাখা টাকা তৈরির পিছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ মুহূর্তে যদি রাষ্ট্রে ৩০০ কোটি টাকার পরিবর্তে আপনি এটাকে আবার সাবস্টিটিউট করতে চান, তাহলে ৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ মুদ্রার জন্যই খরচ হবে। যেটা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য ৬০০ কোটি টাকা কিন্তু বিশাল।’
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রস্তুতি তাদের আছে। তবে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে ওপর মহলের নির্দেশের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘চাহিদার মোতাবেক আমরা নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে ছাড়তে পারছি না। আর পুরনো ডিজাইনের যে নোটগুলো এখনো আমাদের ভল্টে কিছু রয়ে গিয়েছে, এ ব্যাপারে আসলে সিদ্ধান্ত দরকার। এ ব্যাপারে যদি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, এ নোটগুলি আমরা বাজারে ছাড়তে পারি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের যে চাহিদা, সেটা মেটানোর লক্ষ্য; তবে অবশ্যই আমরা ছাড়ব। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।’
বাজারে জরাজীর্ণ নোটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে নীতিনির্ধারকদের ওপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই।





