সিটি গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রভাব পড়বে: মুখপাত্র

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান | ছবি : সংগৃহীত
0

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ ব্যাংকেও পড়বে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় না দেশের এই অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

আজ (মঙ্গলবার, ৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখপাত্র এ তথ্য জানান। এর আগে, গত রোববারও তিনি দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

সিটি গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরে তেল, আটা, ময়দা, সুজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তবে বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে গ্রুপটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের চাপে রয়েছে সিটি গ্রুপ। এই বিপুল অঙ্কের ঋণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংকঋণ, ঋণ পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় আসে। আর্থিক সংকটে থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে সংকট থেকে বের করে আনতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো এরই মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।

জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, যা সরাসরি সমাধান (সলভ) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা দূর করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।’

এসব সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, এই উদ্যোগ বা সহায়তা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেয়া নয়। বরং এই সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা করা এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এফএস