নিউমুরিং কনটেইনার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গেল জানুয়ারিতে টানা কর্মবিরতি পালন করেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এক সপ্তাহের বেশি সময় অচল হয়ে পড়ে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। পরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি হচ্ছে না- অন্তর্বর্তী সরকারের এমন ঘোষণায় কাজে ফেরেন শ্রমিকরা।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ফের আলোচনায় ইজারার বিষয়টি। প্রথমবার বন্দরের জেটি ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করে, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। জানান- চলমান দর কষাকষি শেষে দ্রুতই হবে সিদ্ধান্ত।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘দেশের স্বার্থ কতটা সংরক্ষণ করা যাবে সেটাকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা এ প্রস্তাবনাগুলো নিতে চাই। সেখানে আমি ইতিবাচক বা নেতিবাচক বলছি না। তবে প্রস্তাবনার অনেকগুলো ইতিবাচক দিক আছে।’
আরও পড়ুন:
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ এই বন্দর নিয়ে আগ্রহী। বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকে বহির্বিশ্বের আধুনিক বন্দরের কাতারে নিতে চায় সরকার।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আমদানি রপ্তানি এটা বাড়ার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা রপ্তানিকে বহুমুখীকরণ করতে চাই। শুধু গার্মেন্টস নির্ভর না। অন্যান্য জায়গায় যদি নিয়ে যেতে চায় তাহলে সে ফ্যাসিলিটি নিশ্চিত করতে হবে। এটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে আমাদের সরকারের কাছে।’
এদিকে, বে টার্মিনাল চালু না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর দৈনিক মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান। দু'মাসের মধ্যে ২টি টার্মিনাল নির্মাণে ডিপিওয়ার্ল্ড ও পিএসএ সিঙ্গাপুরের সাথে চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে চায় কর্তৃপক্ষ। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত একটি টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এক্সপোর্ট ইম্পোর্টের যে গ্রোথ এটা যদি আমরা ধরে রাখতে চাই, আরও যদি আমরা বিদেশি বিনিয়োগ আনতে চাই, লজিস্টিক হাব যদি গড়ে তুলতে চাই তাহলে আমাদের বন্দরকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হবে। সেটা যেন কম্পিটিটিভ হয়। আমরা কিন্তু স্পিড টু মার্কেটে ১১ দিনে পিছিয়ে আছি আমাদের পিআর কম্পিটিটর ভিয়েতনাম থেকে।’
১৫ হাজার কোটি টাকায় বে টার্মিনাল অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। আর সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।





