Recent event

প্রাইজবন্ড কী, কেন কিনবেন? মধ্যবিত্তের নিরাপদ বিনিয়োগে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ!

প্রচলিত প্রাইজবন্ড
প্রচলিত প্রাইজবন্ড | ছবি: এখন টিভি
0

সঞ্চয় বা বিনিয়োগের কথা ভাবলে শুরুতেই মাথায় আসে ঝুঁকি বা লসের ভয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে নিরাপদ এবং উত্তেজনাপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হলো প্রাইজবন্ড (Prize Bond)। মাত্র ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে আপনিও জিতে নিতে পারেন ৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার। সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা (Savings Habit) তৈরির লক্ষ্যে সরকার এই বিশেষ বন্ড চালু করেছে।

প্রাইজবন্ড আসলে কী? (What is Prize Bond)

প্রাইজবন্ড হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ বিনিয়োগ প্রকল্প (Investment Scheme)। এটি এমন এক বন্ড যেখানে আপনি যেকোনো সময় টাকা জমা দিয়ে বন্ড কিনতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় তা ফেরত দিয়ে আসল টাকা উত্তোলন (Cash Encashment) করতে পারেন। এই বন্ডে কোনো নির্দিষ্ট সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয় না; পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের আকর্ষণীয় আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।

একনজরে প্রাইজবন্ড ড্র ও পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য
পুরস্কারের ক্যাটাগরি পুরস্কারের মান (টাকা) ট্যাক্স পরবর্তী নিট টাকা
প্রথম পুরস্কার (১ জন)৬,০০,০০০/-৪,৮০,০০০/-
দ্বিতীয় পুরস্কার (১ জন)৩,২৫,০০০/-২,৬০,০০০/-
তৃতীয় পুরস্কার (২ জন)১,০০,০০০/-৮০,০০০/-
চতুর্থ পুরস্কার (২ জন)৫০,০০০/-৪০,০০০/-
পঞ্চম পুরস্কার (৪০ জন)১০,০০০/-৮,০০০/-

আরও পড়ুন:

ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়সূচি (Draw Schedule)

বছরের নির্দিষ্ট চারটি তারিখে প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়:

  • ৩১ জানুয়ারি
  • ৩০ এপ্রিল
  • ৩১ জুলাই
  • ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত তারিখে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

মনে রাখবেন, কোনো বন্ড কেনার অন্তত ২ মাস (Minimum 2 Months) অতিবাহিত না হলে সেটি ড্র-এর আওতায় আসে না।

প্রাইজবন্ড ড্র ক্যালেন্ডার (Prize Bond Draw Calendar)
ত্রৈমাসিক কিস্তি নির্ধারিত তারিখ ছুটি থাকলে নিয়ম
প্রথম ড্র ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় ড্র ৩০ এপ্রিল
তৃতীয় ড্র ৩১ জুলাই
চতুর্থ ড্র ৩১ অক্টোবর

আরও পড়ুন:

কেন প্রাইজবন্ড? জানুন সরকারের এই বিশেষ স্কিমের নেপথ্যের কারণ

বাংলাদেশ সরকার মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি (Internal Resource Mobilization) এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাইজবন্ড স্কিমটি চালু করে। এটি কেবল একটি বিনিয়োগ মাধ্যমই নয়, বরং সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

প্রচলনের প্রধান কারণসমূহ:

একনজরে প্রাইজবন্ড প্রচলনের মূল উদ্দেশ্যসমূহ
মূল লক্ষ্য (Primary Goal) বর্ণনা (Description) সুবিধাভোগী (Beneficiary)
সম্পদ আহরণ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা। বাংলাদেশ সরকার
সঞ্চয় উৎসাহ সব শ্রেণির মানুষের মাঝে জমানোর মানসিকতা তৈরি। সাধারণ জনগণ
নিরাপদ ঋণ জনগণের নিকট থেকে সরাসরি সরকারের ঋণ গ্রহণ। জাতীয় অর্থনীতি
আর্থিক সুরক্ষা বিনিয়োগকারীর আসলের শতভাগ গ্যারান্টি। বিনিয়োগকারী

প্রাইজবন্ড ড্র ফল |ছবি: এখন টিভি

বর্তমানে কত টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড বাজারে আছে? জানুন এর ইতিহাস

বাংলাদেশে প্রাইজবন্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। এ পর্যন্ত মোট তিনটি ভিন্ন মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বর্তমানে বাজারে সবগুলোর প্রচলন নেই। ১৯৭৪ সালে প্রথম যখন এই স্কিম শুরু হয়, তখন ১০ টাকা এবং ৫০ টাকা মূল্যমানের দুটি প্রাইজবন্ড চালু করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর, ১৯৯৫ সালে এই দুটি বন্ডই আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।

একশ টাকার বন্ডের যুগ: ১৯৯৫ সালের ২ জুলাই থেকে বাংলাদেশে নতুন করে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড (100 TK Prize Bond) প্রচলন করা হয়। বর্তমানে এটিই বাজারে প্রচলিত একমাত্র প্রাইজবন্ড। সাধারণ মানুষ যাতে খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করেও বড় অংকের পুরস্কার জেতার সুযোগ পায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই ১০০ টাকার বন্ডটি জনপ্রিয় করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রাইজবন্ডের সময়রেখা ও বর্তমান অবস্থা
বন্ডের মূল্যমান প্রচলন কাল বর্তমান অবস্থা
১০ টাকা ১৯৭৪ - ১৯৯৫ বাতিলকৃত
৫০ টাকা ১৯৭৪ - ১৯৯৫ বাতিলকৃত
১০০ টাকা ১৯৯৫ - বর্তমান সক্রিয় (বাজারজাতকৃত)

আরও পড়ুন:

কেন কিনবেন প্রাইজবন্ড? (Why Should You Buy Prize Bond)

১. ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ (Risk-free Investment): প্রাইজবন্ডে টাকা হারানোর কোনো ভয় নেই। এটি সরকারের একটি ঋণপত্র, তাই আপনার মূলধন ১০০% সুরক্ষিত।

২. সহজে হস্তান্তরযোগ্য (Easily Transferable): এটি নগদ টাকার মতোই বিনিময়যোগ্য। যেকোনো সময় ইস্যু অফিসে গিয়ে টাকা ভাঙানো যায়।

৩. ক্ষুদ্র সঞ্চয় (Small Savings): মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যায়, যা অন্য কোনো সঞ্চয়পত্রে সম্ভব নয়। ৪. আকর্ষণীয় পুরস্কার (Attractive Prizes): ভাগ্যের সহায়তা থাকলে সামান্য বিনিয়োগেই লাখপতি হওয়ার সুযোগ থাকে।

পুরস্কারের পরিমাণ ও তালিকা (Prize List and Amount)

প্রাইজবন্ডের প্রতিটি ড্র-তে বিজয়ীদের জন্য থাকে বিপুল অংকের পুরস্কার:

  • প্রথম পুরস্কার (1st Prize): ৬ লাখ টাকা।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার (2nd Prize): ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
  • তৃতীয় পুরস্কার (3rd Prize): ১ লাখ টাকা করে (প্রতি সিরিজে)।
  • চতুর্থ পুরস্কার (4th Prize): ৫০ হাজার টাকা করে।
  • পঞ্চম পুরস্কার (5th Prize): ১০ হাজার টাকা করে।

পুরস্কারের অর্থ থেকে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী ২০ শতাংশ উৎসে কর (20% Source Tax) কেটে রাখা হয়।

আরও পড়ুন:

কোথায় কিনবেন ও ভাঙাবেন? (Where to Buy and Encash)

প্রাইজবন্ড কিনতে কোনো আবেদনপত্রের প্রয়োজন হয় না। নিচের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নগদ টাকায় এটি কেনা বা ভাঙানো যায়:

১. বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank): সকল অফিস (ময়মনসিংহ বাদে)।

২. তফসিলি ব্যাংক (Scheduled Banks): শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত সকল ব্যাংক।

৩. সঞ্চয় ব্যুরো (Savings Bureau): জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের অধীনস্থ অফিস।

৪. ডাকঘর (Post Office): যেকোনো প্রধান ডাকঘর।

আরও পড়ুন:

সহজেই ফলাফল জানবেন যেভাবে (How to Check Results Easily)

বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাইজবন্ডের ফলাফল (Prize Bond Result) দেখা অত্যন্ত সহজ:

বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট: সার্চ বক্সে সরাসরি নম্বর টাইপ করে ফলাফল পাওয়া যায়।

পিবিআরআইএস সফটওয়্যার (PBRIS): অর্থ মন্ত্রণালয়ের irdbd.online পোর্টালে নম্বর লিখে বা এক্সেল ফাইল আপলোড করে ফলাফল চেক করা যায়।

ইমেইল সাবস্ক্রিপশন: এই পোর্টালে ইমেইল দিয়ে রাখলে প্রতি ৩ মাস পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল ইমেইলে চলে আসে।

প্রাইজবন্ড ড্র ফলাফল |ছবি: এখন টিভি

পুরস্কার দাবির নিয়ম (How to Claim Prize)

ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২ বছর (2 Years Validity) পর্যন্ত পুরস্কার দাবি করা যায়। পুরস্কার জেতার পর নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করলে সাধারণত ২ মাসের মধ্যে বিজয়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) টাকা জমা হয়ে যায়।

প্রাইজবন্ড পুরস্কারের ফরম ডাউনলোড পিডিএফ (Prizebond Award Form Download PDF)

প্রাইজবন্ড পুরস্কারের টাকা উত্তোলনের জন্য অফিসিয়াল প্রাইজবন্ড পুরস্কারের ফরম (PDF) এখান থেকে সহজেই ডাউনলোড করুন। প্রাইজবন্ড পুরস্কারের ফরম (PDF) ডাউনলোড করুন এক ক্লিকে।

আরও পড়ুন:

এসআর