চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে না বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও সারসহ শিল্পের কাঁচামালবাহী বড় জাহাজ। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খোলা পণ্যবাহী বড় জাহাজ বহির্নোঙর থেকে ছোট জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। ৫০ হাজার টনের একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে দৈনিক গড়ে তিন থেকে চারটি লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার হয়। সে হিসেবে ৭০টি মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে প্রয়োজন হয় দেড়শো থেকে দুইশো লাইটারেজ জাহাজ।
বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে পণ্য খালাস করলেও বাকী আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেল থেকে জাহাজ বুকিং নেন। দৈনিক ৮০টি লাইটারেজ বরাদ্দ দেয়া হলেও তিনদিন সেল থেকে কোন জাহাজ দেয়া হয়নি। যে কারণে প্রায় অর্ধশতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ আছে।
শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগে যেখানে একটা জাহাজ ৮ থেকে ১০ দিনে খালাস হতো সেখানে এখন একটা জাহাজ প্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগছে। সে হিসেবে জাহাজ প্রতিদিন যে পরিমাণ ড্যামারেজ খাচ্ছে তা হিসেব করলে প্রতিদিন ৮০টা জাহাজে ১৬ লাখ করে ড্যামারেজ খাচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
আকিজ শিপিং লাইনের এজিএম মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতি মাসে কিন্তু আমাদের ৮ থেকে ১০টা জাহাজ থাকে। এখন এই মুহূর্তে আমাদের পোর্টে আছে ৪টা। গত চারদিন থেকে কোনো কাজই হচ্ছে না।’
বিডব্লিউটিসির দাবি, ঘন কুয়াশায় জাহাজ আসতে বিলম্ব ও বিএডিসির সার নিয়ে ১৪০টি লাইটারেজ জাহাজ বিভিন্ন ঘাটে আটকে থাকায় এই সংকট।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেলের আহ্বায়ক হাজী শফিক আহমেদ বলেন, ‘আগে যেটা ১৮ ঘণ্টায় ঢাকায় যেতো এখন সেটা তিনদিন লাগছে। বিভিন্ন জায়গায় জাহাজগুলো কুয়াশার জন্য চালাতে পারছে না। অনেকগুলো চিটাগাং পোর্টের জাহাজ মংলা পোর্টে চলে গেছে যেহেতু মংলা পোর্টে এখন যথেষ্ট মাদার জাহাজ আছে।’
লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে সম্প্রতি বন্দরে অভিযান চালালেও, আমদানিকারকদের দাবি বর্তমানে সময়ক্ষেপণের প্রবণতা নেই। জাহাজের সিরিয়াল প্রথা তুলে দিয়ে উন্মুক্ত করার আহ্বান অপারেটরদের।
পণ্যের এজেন্ট পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আমদানিকারকরা যদি জাহাজ দেরি করে সেক্ষেত্রে ড্যামারেজ দিতে হয়। সুতরাং ইচ্ছাকৃত দেরি করার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন কারণ মিলিয়ে দেরি হয়ে যাচ্ছে আর কি।’
শিপ হ্যান্ডলিং এন্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন ফ্যাক্টরির আমদানিকারকদের যে জাহাজ আছে অনেক জাহাজ বসে আছে, তাদের যদি ব্যবহার করা যায় তাহলে আমার মনে হয় দ্রুত কিছু পণ্য আনা নেয়া করা যাবে। যেহেতু এখানে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট আছে, তারা কিন্তু বাইরের জাহাজ লাগাতে দেয় না।’
বর্তমানে খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের জন্য অবস্থান করছে প্রায় ৯০টি মাদার ভেসেল।





