শেয়ারের অস্বাভাবিক দামে বিনিয়োগে বাড়ছে ঝুঁকি, নেপথ্যে কী?

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নামফলক
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নামফলক | ছবি: এখন টিভি
0

পুঁজিবাজারে লাভের আশায় বিনিয়োগ করেন লাখো মানুষ। কখনও কখনও শেয়ারের দাম বেশি দেখা গেলেও বাস্তবতায় অমিল থাকে কোম্পানির ব্যবসায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মৌলিক ভিত্তি ছাড়া এসব অস্বাভাবিক দামের কারণে ঝুঁকিতে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে সাধারণত কোম্পানির আয়, মুনাফা, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় শেয়ারের মূল্যায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সবসময় কি তাই হয়? ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক বলছেন, শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে যেমন মৌলিক কারণ থাকতে পারে, তেমনি মৌলিক ভিত্তি ছাড়াও দাম বেড়ে যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘দাম ওঠা-নামার মধ্যে কিন্তু লাভ এবং লসটা নিহিত। ফলে যারা বাজারে বড় আকারে বিনিয়োগ করেন, তারা শেয়ার কিনে লাভ করতে চান। শেয়ারের দাম কিন্তু এমনি এমনি বাড়ে না; দুটা কারণে শেয়ারের দাম বাড়ে, একটা হলো— মৌলিক নিহিত যদি কোনো কারণ থাকে এবং সেটা বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করে, দাম বাড়তে থাকে। আবার কখনো কখনো মৌলিক ভিত্তি না থাকলেও কিন্তু দাম বাড়তে পারে।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, ‘মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া একটা শেয়ারের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সেটা যদি হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেটা বুঝতে পারে না। সেজন্য তাদের আরেকটু সতর্ক থেকে, আরেকটু খোঁজখবর নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।’

দাম বাড়ার আগে কারা বড় পরিমাণে শেয়ার কিনেছে বা পরে কারা বিক্রি করেছে- লেনদেনের এই তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ছোট বিনিয়োগকারীরা।

আরও পড়ুন:

আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর লে. জেনারেল মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই ফ্রি-মার্কেট ইকোনমির সঙ্গে রাজনীতির তো অবশ্যই একটা সংযোগ আছে। আধুনিক যুগে এটা কম্পিউটারে চলে গেছে, যেটাকে আমরা ডি-ম্যাটারিয়ালাইজেশন বলে থাকি। এই প্রযুক্তিগুলো পরবর্তীতে শেয়ার ম্যানুপুলেটররা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান ও জানার কমতির সুযোগ নিয়ে সাধারণত এ ধরনের কারসাজিগুলো করে থাকে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবও প্রভাব ফেলছে বিনিয়োগকারীর সিদ্ধান্তে। যাচাই ছাড়া এসব তথ্যের ভিত্তিতে কেনাবেচায় ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা কয়েকবার ইনিশিয়েটিভ নিয়েছিলাম। দেখা যাচ্ছে যে, এসব ওয়েবসাইটগুলো হয়তো দেশের বাইরে থেকে চলে। তবে ইনিশিয়েটিভ নিয়ে আসলে খুব বেশি ক্লোজ করা যায়নি। কারণ এটা আসলে দেশের ভেতর থেকে হয়তো অপারেটও হয় না। বিভিন্ন ধরনের পডকাস্ট আয় বা ফিনান্সিয়াল লিটেরেসি বলতে যেটা আমি বুঝাই, সেটার ব্যাপারে আমরা প্রচার শুরু করবো।’

তবে অস্বাভাবিক দাম ও লেনদেন শনাক্তে বাজারে রয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান বলছেন, অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন ধরা পড়লে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। তবে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কোনো ধরনের ইররেগুলারিটিজ হয়, সেক্ষেত্রে আমরা এটা বিসেককে (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি) পাঠাই, ওনারা অনুসন্ধান করে দেখেন, যে এটার কতটুকু বা কোন আইনের ধারায় ইররেগুলারিটিজ হয়েছে। সেই অনুযায়ী ওনারা একটা এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশনের দিকে এগোন।’

পুঁজিবাজারে দাম ওঠানামা স্বাভাবিক। তবে দামের সঙ্গে কোম্পানির মৌলিক অবস্থার অমিল, অস্বাভাবিক লেনদেন ও তথ্যের অসমতা তৈরি করতে পারে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি।

এসএইচ