নরসিংদীতে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ২০ সিম ও ৯ মোবাইল জব্দ

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সদস্য
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

নরসিংদীতে অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসময় তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিআইডির অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুকে পেজ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিটের একটি বিশেষ দল গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— রায়পুরা পৌরসভার শ্রীরামপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম (৪৬), মনোহরদীর নোয়াদীয়া গ্রামের মো. সোহেল (৩৭), একই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম (২৭), উত্তর নোয়াদীয়া এলাকার মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩) এবং নরসিংদী সদরের নয়াদরাকান্দিয়া এলাকার আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮)।

আরও পড়ুন:

সিআইডি জানায়, রায়পুরা থানার রেলগেইট কলেজ মার্কেট এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে, মনোহরদীর নোয়াদীয়া গ্রামের মৌলভী বাড়ি এলাকা থেকে সোহেলকে, মনোহরদী থানার সামনে রাজু টাওয়ার এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম ও রুবেল মোল্ল্যাকে এবং নয়াদরাকান্দিয়া এলাকা থেকে আইয়ুব হোসেন রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি জানতে পারে, দেশের ভেতরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। এসব ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি আরও জানতে পারে, এসব বেটিং সাইটে জুয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হয়। এজন্য বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়। অর্থ জমা দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বট মানি যুক্ত হয়।

আরও পড়ুন:

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য চক্রটি বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতো। সময়ের সঙ্গে এসব নম্বর ও হিসাব পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সেগুলোর তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হতো।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও তথ্য পাওয়া গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা একত্রিত করে কমিশন রেখে দিতেন। পরে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের পর দেশের বাইরে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি গত ১৯ মে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় করা হয়। সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। জব্দ করা মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ব্যাংক হিসাব ও চেকবইয়ের ফরেনসিক ও কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে। এর মাধ্যমে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে তাদের সংশ্লিষ্টতা, আর্থিক লেনদেনের ধরন, চক্রের অন্য সদস্য এবং অর্থের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট। চক্রটির সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অবৈধভাবে লেনদেন করা অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, অনলাইন বেটিং সাইট পরিচালনাকারী, এজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করা এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

এসএস