চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন, আটক শিক্ষক

অভিযুক্ত সেই শিক্ষক
অভিযুক্ত সেই শিক্ষক | ছবি: এখন টিভি
0

সিলেটে গভীর রাতে একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করেছেন শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধুও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নিয়েছিলেন।

গতকাল (শনিবার, ১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেনকে আটক করেন। এসময় তার কাছ থেকে প্রায় ৪০০টি এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র জব্দ করা হয়।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের একজন পরীক্ষক। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আইরিন লিনজাসহ আরও দু’জন।

অভিযোগ রয়েছে, তারাও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেন। দোকানে তখন একটি বস্তাভর্তি উত্তরপত্র রাখা ছিলো। স্থানীয়দের দাবি, আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই স্থানে বসে তারা উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

ঘটনার পর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ইকবাল হোসেনকে নিজেদের হেফাজতে নেন। তবে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছ থেকে কোনো খাতা জব্দ করা হয়নি। আমি এখানে কোনো দায়িত্বে ছিলাম না। খাতা এনেছিলেন শিক্ষকই। আমি শুধু তার সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট।’

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পরীক্ষককে উত্তরপত্র মূল্যায়নরত অবস্থায় আটক করি। সেখান থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষককে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরে তাকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দেয়া হয়।

এসএইচ