নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ছিলেন ওসমান গণি। সম্প্রতি সেখানে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরেই ওসমান গণির ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।
ওসমান গনির রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, রাতে কয়েকজন গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা ব্যক্তি তাকে ও ওসমানকে আটকায়। তখন তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখায়। এসময় ওসমানকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘দেখাই দিয়া ওসমান ভাইরে বলতাছে যে, হেই। যখন আঙ্গুল দিয়া দেখাই দিছে, ভাইরে ওদের হাতে থাকা শক্ত লোহার রডের মতো, ডাকাত দলের রাতে করে তালা কাটার যেরকম কিছু থাকে, কাটারের মতো, এটা দিয়া বাড়ি মারছে মাথায়। কয়েকটা বাড়ি মারার পরে উনি লুটায় পড়ে গেছে।’
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:
তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘১৫ থেকে ২০ জন লোক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তার শরীরে ১০০ এর ওপরে আঘাত করা হয়েছে। ওই জায়গায় তারা আবার লাড়াইয়া দেখে মরছেনি। মানুষ লড়ে না পরে হ্যারা গেছে।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ (বৃহস্পতিবার, ২১ মে) সকাল থেকে নিহতের স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করেন। এসময় কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের ও মটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সকলেই দুপ্তারা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ‘মাটি কাটা নিয়ে ঘটনা। তারপরও আমরা যেহেতু মামলা তদন্ত করছি, তদন্ত করেই আমরা পুরো ঘটনাটা আমরা পরবর্তীতে বলতে পারবো আশা করি। আমরা এ ঘটনার সন্দেহে চারজনকে আটক করেছি।’
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক শহীদুর রহমান বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপানো হয়েছে, এটা আমরা সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করছি। এখন আমরা চালানের মাধ্যমে মরদেহ ডিএমসি মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণটা আমরা জানতে পারবো।’
নিহত ওসমান গনি উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার নাতনির জামাতা এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা।




