পুলিশ জানায়, জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’-এর সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩) সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
গ্রেপ্তার মাহেদ সিলেটের বিশ্বনাথ থানার দশঘর গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে এবং পূর্বঘোষিত রেড এলার্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল বড়লেখা থানাধীন দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি এলাকায় বিশেষ গোপন অভিযান পরিচালনা করে।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী সতর্কতামূলক অভিযানের একপর্যায়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি উঁচু টিলা হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট কর্তৃক তদন্তাধীন একটি মামলার সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।
সিটিটিসি ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন রাত ১১টা ৩০ মিনিটে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সিটিটিসি’র নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। এছাড়া রেড এলার্ট জারির পর থেকে সে আত্মগোপনে ছিল এবং সম্প্রতি অবৈধভাবে ভারত গমনের চেষ্টা করছিল বলে জানা যায়।’
তার কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, কয়েকটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড, চেক, বেশকিছু সিম জব্দ করা হয়েছে।





