রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। সেই সঙ্গে কীভাবে কী হয়েছে, বিস্তারিত ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।’
নিহত আফিয়া আক্তারের (৪৫) বাবার বাড়ি রায়পুরার নীলক্ষা ইউনিয়নের মেহেরনগর এলাকায়। অভিযুক্ত আফিয়ার স্বামী সুজন (৫৫) হাইরমারা এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, হাইরমারার আফিয়া ও তার স্বামী সুজনের মেয়ের বিয়ের বাজার করার ২০ হাজার টাকা নিয়ে রাতে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে স্বামী সুজন স্ত্রী আফিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
তারেক নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘মঙ্গলবার আফিয়া-সুজন দম্পতির মেঝো মেয়ে চাঁদনির বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার জন্য তাদের বড় মেয়ে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। অভিযুক্ত সুজন নেশায় আসক্ত হওয়ায় ওই টাকা থেকে কিছু টাকা সরিয়ে খরচ করে ফেলেন।’
তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সুজন তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আমরা সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছি এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
স্থানীয়রা জানায়, সুজন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণ নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই আফিয়াকে মারধর করতেন। খুনের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুজন পলাতক রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
মোবারক হোসেন নামে স্থানীয় আরেকজন বলেন, ‘সুজন মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতো।’
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, ‘নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরহতাল রিপোর্টও তাই বলছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’





