লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর ৪টায় বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।’
পরবর্তীতে আটক বোট মাঝি চাঁন মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকাল ৫টায় কোস্টগার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী সংলগ্ন এলাকা হতে মায়ানমারে পণ্য পাচারের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকে (৪০) আটক করা হয়।
আটক মো. আজিম উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়া, বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি মিয়ানমারে অবস্থানকারী আনোয়ার নামক ব্যক্তির থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার বিভিন্ন অসাধু বোট মালিকের সহযোগিতায় বোটযোগে এসব পণ্য মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মির’ নিকট পাচার করে আসছিলো।
আরও পড়ুন:
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, উক্ত পাচারের বিনিময়ে সে প্রায়শই মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করত। পাশাপাশি, তার মুঠোফোন পর্যালোচনা করে এসব পাচারকাজের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমান পাওয়া গিয়েছে।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বিত অভিযানে এ পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটক পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আরও বলেন, ‘পাচার ও চোরাচালান রোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’





