‘জেল খাটা কেমন’ কৌতূহল থেকেই নারায়ণগঞ্জে শিশু হোসাইন হত্যা: পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় | ছবি: এখন টিভি
5

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারই সমবয়সী কয়েকজন কিশোর বন্ধু। ভয়াবহ এ ঘটনায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক তথ্য—শুধু ‘জেল খাটা কেমন’ সে কৌতূহল থেকেই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

আজ (সোমবার, ২৭ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপার মো.. মিজানুর রহমান মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিহত হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে নিখোঁজ থাকার পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনির একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরো জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’। আর সে অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা পরিকল্পনা করে।

আরও পড়ুন:

পরবর্তীতে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরও তিন সহযোগী। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ কিশোরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে চারজন এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে আরও দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রধান আসামি ইয়াসিন এরইমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও একজন আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা ও মাদকাসক্তির এই প্রবণতা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

এএইচ