মামলায় নিহত ধর্মশিং চাকমাকে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সহ-সভাপতি এবং তাকে পূর্ব শত্রুতার কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএসকে দায়ী করেছে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ। গণমাধ্যমে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে নিরন চাকমার পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার জন্য জেএসএসকে দায়ী করা হয়। অবিলম্বে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমার হত্যাকারী সন্তু বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে বরাবরের মতো অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস।
আরও পড়ুন:
জেএসএসের রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জেএসএস জড়িত নয়। কুতুকছড়িতে আমাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। এটা ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হত্যাকাণ্ড হতে পারে।’
বাদী মামলার আরজিতে উল্লেখ করেন আজ (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থল রাঙামাটির কোতয়ালী থানাধীন কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের কুতুকছড়ি উপর পাড়ায় ধর্মশিং চাকমাকে (৩৯) নিজ বসতবাড়ীতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হত্যা করে।
অজ্ঞাতনামা ওই ২০ থেকে ২৫ জন পাহাড়ি সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পিত ভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধে বাদীর শ্যালক ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করিয়া হত্যা করে। ধর্মশিং চাকমার বোন ভাগ্যশোভা চাকমা (২৫) ও কৃপা সোনা চাকমাকে (৩৫) গুলি করে আহত করে। আহত শ্যালিকা ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপা সোনা চাকমাদ্বয়কে রাঙামাটি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড করেন।
আরও পড়ুন:
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-নানিয়ারচর সড়ক সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করলে তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কোতয়ালী থানার ওসি মো. জসীম উদ্দীন বলেন, ‘বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের প্রেক্ষিতে কোতয়ালী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন পাহাড়ি সন্ত্রাসীকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।’
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোরে একটি সশস্ত্র গ্রুপ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় নিহতের দুই বোন ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমাও গুলিবিদ্ধ।
আরও পড়ুন:
পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠান দায়িত্বরত চিকিৎসক।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. এন্থনী চাকমা তাদের চিকিৎসা করেন।
তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ দুই নারীকে সকালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে তাদের জরুরি চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব বলেন, ‘রাঙামাটির কুতকছড়িতে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় নিহত ধর্মশিং চাকমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তার দুই বোন ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।’





