প্রবাসীকে অপহরণ মামলায় মূলহোতা রবিউলকে কারাগারে প্রেরণ

গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম
গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
0

মালয়েশিয়ায় আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে শেরপুরের এক প্রবাসীকে অপহরণের মামলায় আন্তঃদেশিয় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা রবিউল ইসলামকে (৩৫) সাত দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আজ (বুধবার, ১৫ এপ্রিল) দুপুরে রবিউলকে সাতদিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হলে জিআর আমলী আদালতের দায়িত্বে থাকা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল) রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আজ বিকেলে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ও তার সঙ্গীয় ফোর্স রবিউলকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম বগুড়া জেলার গাবতলি উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সদরের বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর কান্দিপাড়া গ্রামের মো. আবুল হাসেমের পুত্র ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

আরও পড়ুন:

গত ২২ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার আরিফুলের রেস্টুরেন্টে তিনজন অপরিচিত লোক আসে এবং তার পরিচালিত রেস্টুরেন্টে সুলভ মূল্যে মাংস দেয়ার কথা বলে ডেকে নেয়।

এরপর ওই তিনজন তাকে খামারে না নিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার সঙ্গে থাকা মালয়েশিয়ান সাড়ে ১৩ হাজার রিংগিট ও এটিএমে থাকা ১ হাজার রিংগিট এবং ১৪০০ রিংগিট মূল্যের একটি উন্নত স্মার্টফোন নিয়ে নেয়। যা বাংলাদেশি টাকায় মোট ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

এরপরও আরিফুলের কাছে আরও সাত লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে আরিফুল প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে ফোন দিয়ে তার মা-বাবার কাছ থেকে মোট পাঁচ লাখ টাকা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়।

আরও পড়ুন:

এদিকে গত ৮ মার্চ আরিফুল দেশে ফিরে এলে তা মামা মোফাজ্জলের সহযোগিতায় নিশ্চিত হন, যে বিকাশ এবং ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা গ্রহণ করা হয়েছে তা ইসলামী ব্যাংক গাবতলী শাখার রবিউল ইসলামের নামে এক ব্যক্তির। সেই সঙ্গে আরও জানতে পারে যে, মালয়েশিয়াতে রবিউলের দুই ভাই অবস্থান করেন।

এদিকে ওই ঘটনায় আরিফুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে রবিউল ইসলামকে স্বনামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে গত ৮ এপ্রিল শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে দঃবিঃ ৪২০/৩৬৪(ক)/৩৮৬/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় একটি নালিশী মামলা দায়ের করলে আদালতের বিচারক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:

এরপর মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হলে তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই এনামুল হক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিউল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাবতলী পুলিশের সহায়তায় অভিযানে নামে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, ‘এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার মামলা। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম একজন আন্তইশয় সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।’

এসএস