মো. সাইফুল্লাহ ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে ডোমগাটা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। গ্রামের বাড়িতে মা–বাবা, বড় ভাই জয়নাল আবেদীন ও মো. সাইফুল্লাহর স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে বাস করেন। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মো. সাইফুল্লাহ জানান, গতকাল রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেয়া হয় এবং বসত ঘরে কুপিয়ে আগুন দেয়ার চেষ্টা করা হয়। দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় বসত ঘরে আগুন ছড়াতে পারেনি।
সাইফুল্লাহ বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। কিন্তু এলাকায় এ কাজ কারা করেছে তা বুঝা যাচ্ছেনা। কিন্তু গত কয়েকটি ইস্যুতে এলাকার পলাতক আওয়ামী লীগের লোকজন ফেসবুক পোস্টে হুমকি দিচ্ছিল। এ কাজটি আওয়ামী লীগ করেছে এটা স্পষ্ট। ঘটনার পর অনবরত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলছে, তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলে-মেয়ে বেঁচে গেল।’ এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান সাইফুল্লাহ।
আরও পড়ুন:
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ছাত্রনেতার ভাই জয়নাল আবেদীনের বক্তব্য অনুযায়ী লাকড়ির একটি ঘরে আগুন লেগেছে। এ ছাড়া বসত ঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ রয়েছে এবং টিন কেটে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতার গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় আজ শুক্রবার দুপুরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন। এসময় পরিবারের সদস্যদের সাহস দিয়ে সবসময় পাশে থাকার কথা বলেন তিনি।
এছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব আলী হোসেন ও জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আল নূর আয়াস সাইফুল্লাহর বাড়িতে যান।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ রাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। ওই সময় তাকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ছাত্রশক্তির নেতা সাইফুল্লাহ। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।' পরবর্তীতে ফেসবুক পোস্টটি তার আইডি থেকে ডিলিট করে দেন তিনি ।





