গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতির হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা | ছবি: এখন টিভি
0

গাজীপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মোল্লার (৬৫) হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সদর মেট্রো থানা পুলিশ।

নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা নগরীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করতেন। সুজনের জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়াও তার ঠিকাদারি ব্যবসা ছিলো।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) সকাল সাতটার দিকে কামরুজ্জামান মোল্লা নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে যান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। রাত গভীর হলেও তিনি না ফেরায় স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত দুইটার দিকে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের তার মরদেহ উদ্ধারের খবর দেয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ১১টার আগের কোনো এক সময়ে কামরুজ্জামান মোল্লাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর হাত-পা বেধে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দুর্বৃত্তরা ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।

রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আরও পড়ুন:

সুজনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, ‘নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা আমাদের সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’

নিহত কামরুজ্জামানের ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জানা মতে কারও সঙ্গে তার বিবাদ ছিলো না। তবে ব্যবসার কোনো টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে শত্রুতা থাকতে পারে। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ আজ বিকেলে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।’

গাজীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।’

এফএস