গ্রেপ্তারকৃত আহমেদ কবীর (৪৭) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকার বাসিন্দা।
খুলশী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তাকে খুলশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ সিরাজ (৪৫) কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা উত্তর চরহাজারী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি গরীবউল্ল্যাহ হাউজিং সোসাইটির কেডিএস বিল্ডিংয়ে বসবাস করছেন।
মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—সৈয়দ মোহাম্মদ বাচ্চু (৪৩), সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল (৪০), মোহাম্মদ আবদুল মন্নান (৩৯) এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেডিএস বিল্ডিংয়ের পার্কিং এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নিয়ে আসামিরা বাদীকে ঘেরাও করেন।
এ সময় আহমেদ কবীর তার জমি ব্যবসা ভালো চলছে উল্লেখ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, হামলায় বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। সাত দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি খুলশী থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩৪১/৩৪২/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৮৫/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই মাসুদ কামাল। পুলিশ জানায়, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আহমেদ কবীর অতীতেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ রাতে নিজেকে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে প্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নিজেকে বিভিন্ন অনলাইন ও বেসরকারি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ঘোরাফেরা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে তোলা ছবি পাওয়া গেছে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস-এর সঙ্গে।
অন্য এক ঘটনায়, ২০২৪ সালে ঢাকার মতিঝিল এলাকার জাকির হোসেন (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সিআর মামলা নম্বর-৫৯৭/২৪ বর্তমানে বিচারাধীন এবং সিআইডি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।





