বরগুনায় কালবৈশাখির তাণ্ডব; পানিতে ভাসছে কৃষকের কষ্টের ফসল

পানিতে ভাসছে কৃষকের কষ্টের ফসল
পানিতে ভাসছে কৃষকের কষ্টের ফসল | ছবি: এখন টিভি
0

মাঠের পর মাঠ জুড়ে ছিলো সবুজের সমারোহ। প্রতিটি ডালগাছে কৃষকের ঘামঝরানো পরিশ্রমে দুলছিলো সোনালী স্বপ্ন। কিন্তু মাত্র দুই দিনের বিধ্বংসী কালবৈশাখি ঝড় আর মুষলধারে বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। উপকূলীয় জেলা বরগুনার নিচু জমি ও চরাঞ্চলের শত শত একর মুগ ডাল ক্ষেত এখন পানির নিচে। ঘরে ফসল তোলার আগমুহূর্তে প্রকৃতির এ তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে নদী তীরবর্তী এলাকা ও নিচু জমির ফসল পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। চাষিরা জানান, মুগ ডাল গাছ অত্যন্ত স্পর্শকাতর; এর গোড়ায় সামান্য পানি জমলেই গাছ দ্রুত পচে যায়। প্রথম দিকে জমে থাকা পানি জমি শোষণ করে নিলেও টানা বর্ষণে এখন মাঠের পর মাঠ জলাবদ্ধ হয়ে আছে। ফলে ডাল পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বরগুনার ইটবাড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছিলো। ভেবেছিলাম, গত কয়েক বছরের দেনা শোধ করবো। কিন্তু এখন লাভের আশা তো দূরের কথা, সার, ওষুধ আর চাষের খরচ ওঠানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার ওপর বাজারে ডালের কাঙ্ক্ষিত দামও নেই।’

জেলার তালতলী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. মাইনুল জানান, তিনি এবারে এক একরেরও বেশি জমিতে মুগডালের আবাদ করেছিলেন। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও টানা বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেত এখন পানির নিচে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আমার সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:

একই উপজেলার আরেক কৃষক হারুন মিয়া বলেন, ‘৫ হাজার টাকা খরচ করে ১০০ শতাংশ জমিতে ডাল লাগিয়েছিলাম। মাত্র একবার ঘরে তুলতে পেরেছি। এখন পানি জমে থাকায় গাছগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, সব নষ্ট হয়ে যাবে। লোকসানের পাল্লা ভারি হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।’

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বরগুনায় প্রায় ৪৮ হাজার ৪৭৮ একর জমিতে মুগ ডালের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাম্পার ফলনের আশা ছিল কৃষি বিভাগের। কিন্তু এ আকস্মিক দুর্যোগে সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ শুরু করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে দ্রুতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’

যেখানে ডালক্ষেত হওয়ার কথা ছিলো অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার, সেখানে আজ শুধুই লোকসানের দুশ্চিন্তা। কৃষকদের দাবি, তারা যদি সময়মতো সরকারি বীজ, সার ও আর্থিক প্রণোদনা না পান, তবে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

এসএইচ