উত্তরের প্রবেশদ্বার বগুড়ার সন্তান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। দলটির প্রতিষ্ঠার পর দেশ গঠনে ভূমিকাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিএনপির ঘাঁটিতে রূপান্তর হয় রাজশাহী-বগুড়াসহ উত্তরের অধিকাংশ অঞ্চল। কিন্তু সবশেষ ২০০৬ সালের পর রাজনৈতিক নানা সিদ্ধান্তে বিএনপি ছিল কোণঠাসায়।
আর গেল ১৭ বছরের আওয়ামী আধিপত্যের কাছে নানা নির্যাতন সহ্য করে মাঠে থেকেছে দলটি। এর মধ্যেই নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক মামলা, চেয়্যারপারসনকে জেলে নেয়াসহ নানা নিপীড়নে তৃণমূলের নেতারাও ছিল দিশেহারা। সবশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক নানা কর্মসূচিতে এক রকম স্বাধীন হয় দলটি। এরপর নেতৃত্বের সংকটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূলের বিএনপিও ছিল ভঙ্গুর আর অন্তদ্বন্দে আক্রান্ত। সবশেষ ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে চাঙ্গা হয় বিএনপি।
একই সঙ্গে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর নেতৃত্বেও গতি আসে। জোরেশোরে শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মিটিং মিছিল, সভা সমাবেশ। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর মাঠের রাজনীতিতে বিএনপির থেকে নির্বাচনের মাঠ গুছিয়ে ছিল জামায়াত। যার ফলে উত্তরে নির্বাচন ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান ছিল তাদের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তারই প্রমাণ দিয়েছে।
বিএনপি নেতারা রাজশাহী জেলার ছয়টি আসনে বিজয়ের কথা বললেও তাদের হারাতে হয়েছে দুটি আসন। ফলে রাজশাহী-০১ বিএনপির ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই নির্বাচন করলেও তাকে হারতে হয়েছে ১৮শ ভোটে, আর জনপ্রিয় প্রার্থী থাকার পরো রাজশাহী ৪ প্রায় ৬ হাজার ভোটে জামায়াতের কাছে পরাজিত হয়েছে বিএনপি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াতের ঘাঁটি হলেও আওয়ামী আমলের নির্বাচনের বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী হারুন অর রশিদকেও হারতে হয়েছে জামায়াতের কাছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে মাঠ গোছাতে দেরি হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমন পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বিএনপিকে।
তবে বগুড়ার ৭টি আসনে এবং নাটোরের ৪টি আসনের সবকটিতে বিএনপির নিরঙ্কুস বিজয় উত্তরবঙ্গে আবারও শক্ত অবস্থানে ধরে রাখলো বিএনপি।
এছাড়া নওগাঁয় ও সিরাজগঞ্জ ২ জেলাতেই ৬টি করে আসনের বিপরীতে পাঁচটিতেই জয় পায় বিএনপি। পাশাপাশি, নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতের প্রার্থীর বিজয় এবং পাবনায় দুটিতে বিএনপি ও তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করে।
রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ৩৯ টি আসনে বিএনপির নিরঙ্কুশ এই বিজয় শতভাগ না হলেও, পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলে দলটির অবস্থান আরও শক্ত অবস্থানে নেবে বলে নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করছেন।
রাকিবুল হাসান, এখন, রাজশাহী।





