ভোলা-ঢাকা নৌপথে সরকারি ফেরি সার্ভিস চালু; কমবে সময় ও ভোগান্তি

ভোলা-ঢাকা নৌপথে ফেরি
ভোলা-ঢাকা নৌপথে ফেরি | ছবি: এখন টিভি
0

ভোলা-ঢাকা নৌরুটে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো সরকারি ফেরি সার্ভিস। ভোলার ইলিশা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত সরাসরি চলাচল করবে বিআইডব্লিউটিসির দুটি ফেরি। এতে ভোলা থেকে রাজধানীতে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সময় কমার পাশাপাশি ভোগান্তি কমার আশা সংশ্লিষ্টদের।

ভোলা থেকে ঢাকায় পণ্য ও যানবাহন পরিবহনে এতদিন প্রধান ভরসা ছিল ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুট। এই পথে একটি ট্রাক বা পণ্যবাহী যানকে রাজধানীতে পৌঁছাতে সময় লাগতো প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। ফলে বাড়তো পরিবহন খরচ, ভোগান্তিতে পড়তেন পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে ভোলার ইলিশা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত চালু হওয়া এ রুটে চলাচল করছে দুটি ফেরি। প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এতে সময় লাগবে প্রায় সাত ঘণ্টা।

নতুন এই ফেরি সার্ভিসের ফলে সরাসরি এই রুট ব্যবহার করতে পারবেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। ভোলায় উৎপাদিত মাছ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রাজধানীর বাজারে পৌঁছানো, একইসঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন পণ্যও সহজে ভোলায় আনা যাবে।

পরিবহন শ্রমিকদের একজন বলেন, ‘এ ফেরি চালু হওয়ার ফলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে ভোলা থেকে ঢাকা যেতে অনেক সময় লাগতো।এখন কিছুটা কম সময় লাগে।’

বিআইডব্লিউটিসি বলছে, নতুন এই নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। অন্যদিকে, ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারার আশা।

আরও পড়ুন:

ভোলা বিআইডব্লিউটিসি, ইলিশা ফেরিঘাট ব্যবস্থাপক মো. কাওছার আহাম্মেদ খান বলেন, ‘এখন আপাতত ১৪টি ট্রাক, পাশাপাশি ৫ থেকে ৭টি ছোট গাড়ি আমরা পারাপার করছি। যদি আমরা এটা ধরে রাখতে পারি, ড্রাইভারদের সহযোগিতা পাই, সবার সহযোগিতা পেলে, আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা এটাকে আরও একাধিক ট্রিপে এখানে সম্পন্ন করতে পারবো।’

ভোলা-ঢাকা নৌ-রুট ভোলাবাসীর চাহিদার কথা বিবেচনা রেখে চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সড়ক, সেতু ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জনগণের চাহিদা আছে, মানুষের চাহিদা আছে। সেইজন্য এটিকে আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আর যে সাড়া আমরা পেয়েছি, তা আমাদেরকে উৎসাহিত করছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যাত্রী যেখানে থাকে, মানুষের চাহিদা যেখানে থাকে, সেখানে এমন আছে সরকারি খাত, আগামীতে বেসরকারি খাতও যেতে পারে।’

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে ভোলার সঙ্গে রাজধানীর নতুন ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে সরাসরি নৌ যোগাযোগ আরও সহজ হবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এফএস