জয়ন্তী নদীতে সেতু কমাবে দূরত্ব; গতি পাবে দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্য

জয়ন্তী নদী পার হচ্ছে স্থানীয়রা
জয়ন্তী নদী পার হচ্ছে স্থানীয়রা | ছবি: এখন টিভি
0

শরীয়তপুর ও বরিশালের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগে জয়ন্তী নদীতে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগে তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা। কৃষিপণ্য ও মাছ পরিবহনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে গতি।

জীবন্ত ও বহমান জয়ন্তী নদী। দুই জেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে চলা এই নদী একদিকে শরীয়তপুর অন্যদিকে বরিশাল। সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখনো বড় বাধা এই নদী। একটি সেতুর অভাবে দুই জেলার মানুষের বাড়তি সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে খুলে যাবে যোগাযোগের নতুন দুয়ার।

সেতুটি নির্মিত হলে শরীয়তপুর ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের যোগাযোগের তৈরি হবে নতুন বিকল্প পথ।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘শুধু এই যে নদীর ওপারটু যাব, ওই যে ওই আমাদের বাড়িও এখানে দেখা যায়, কিন্তু আমি যাইতে পারতেছি না। দেড়টা ঘণ্টা আমি এখানে বইসা রইছি।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমাদের এই জয়ন্তী নদীর উপরে যদি একটা ব্রিজ সেতু হইতো, তাহলে আমাদের আরও এক থেকে দেড় ঘণ্টা সেভ হইতো।’

আরও পড়ুন:

এলাকাবাসীর মধ্যে একজন বলেন, ‘যদি এই পদ্মা সেতুর সঙ্গে আমাদের এই সেতুটা হয়ে যায়, তাহলে আমরা তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় আমরা গুলিস্তান পৌঁছাতে পারি।’

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কে এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগে কমবে সড়কপথের দূরত্ব, পরিবহন ব্যয় ও সময়। পচনশীল কৃষিপণ্য ও মাছ দ্রুত ঢাকায় নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে, একই সঙ্গে তৈরি হবে নতুন বাজার, বাড়বে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পরিবহন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সহজেই রোডটা হয়ে যায়, তা আমাদের এই মালামালটা নিয়া বোর্ড এক্সপোর্টে নিয়া দেওয়া খুব সহজ একটা বিষয়।’

অন্য একজন বলেন, ‘চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ওইদিকে অনেক যাতায়াতের জন্য এই রোডটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সুবিধা এমনকি দ্রুত যাওয়ার জন্য খরচ কম হবে।’

আরও পড়ুন:

মৃধারহাট আবুপুর ভেদুরিও এলাকায় সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। সেতু ঘিরে শরীয়তপুর ও বরিশালের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানালেন কর্মকর্তারা।

শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, ‘বরিশালের ছয়টি জেলার যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে সরাসরি গোসাইরহাট থেকে শরীয়তপুর সদর হয়ে তা ঢাকার দিকে চলে যেতে পারবে। এটাতে তাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে।’

বরিশাল মুলাদীর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘এখানে সড়ক ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা অবশ্যই প্রশস্ত সড়ক আমরা ব্যবহার করবো, যেন সরাসরি ঢাকার সঙ্গে মুলাদী বরিশালের এই তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ে। সেজন্য যে ধরনের সড়ক নির্মাণ করা দরকার, ওই ধরনের সড়কই আমাদের প্রস্তাবনা করা হয়েছে।’

প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,৪৮০ মিটার। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১,৩৯২ কোটি টাকা।

এসএস